মঠবাড়িয়ায় ট্রিপল মার্ডার: ৫ দিনেও উদঘাটন হয়নি হত্যার রহস্য

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি।।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় চাঞ্চল্যকর অটোচালক আয়নাল হক (৩৫), তার স্ত্রী খুকু মনি (২৫) ও তাদের ৩ বছরের একমাত্র শিশু কন্যা আশফিয়ার হত্যার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও এ খুনের নেপথ্যের কারণ বের করতে পারেনি থানা পুলিশ। যদিও পুলিশ এ তিন মার্ডারের পর নিহতের আপন ভাই কাঁচামাল ব্যবসায়ী হেলাল হাওলাদার (৪০), চাচাত চাচা ভ্যান চালক আঃ মালেক হাওলাদার (৫৫), চাচাত ভাই কৃষক বেলাল (৪০), প্রতিবেশী মাহবুব (১৯) ও আ. রহিম (১৬) ও শামিম (২৬) কে গত ৫ দিন ধরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যার সাথে সংশ্লিষ্টতার কোন তথ্য দিচ্ছে না।

এদিকে, এ চাঞ্চল্যকর তিন খুনের ঘটনায় ওই দিন শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে নিহত আয়নালের শশুর (খুকুর পিতা) চিত্রা গ্রামের আবুল কালাম সর্দার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে মঠবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত বৃহস্পতিবার দিনগত গভীর রাতে সংঘঠিত হওয়া এ হত্যার ক্লু বের করতে সিআইডি, ডিবি, পিবিআই, র‌্যাবসহ থানা পুলিশের একাদিক টিম এ খুনের নেপথ্য কারণ ও খুনিদের গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে। কিন্তু হত্যার নেপথ্য ক্লু এখন পর্যন্ত বের করতে পারছে না।
এদিকে, আপন ভাইসহ ৬ জনকে জিজ্ঞাসা বাদের জন্য ৫ দিন ধরে আটকের ঘটনায় এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীরা জানান- নিহত আয়নালের বাবা উপজেলার ধানীসাফা গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী রত্তন হাওলাদার ১৫/১৬ বছর আগে মারা যাওয়ার পর থেকেই তাঁর ৪ পুত্রের মধ্যে সু-সম্পর্ক ছিল। আয়নালের ছোট ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী জয়নাল (২৮) দু’মাস আগে প্রবাসে বসে ষ্ট্রোক জণিত কারণে মারা যায়। গত একমাস আগে দেশে এনে ওই ভাইয়ের লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। এ শোক কাটতে না কাটতেই দরিদ্র পরিবারের আরেক ভাই সপরিবারে হত্যায় এলাকাবাসি স্তম্ভিত।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নিহত আয়নালের চাচা মালেকের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। তিনিও এ ঘটনায় কতটুকু জড়িত? এ প্রশ্ন এলাকার সবার। এছাড়াও একই গোষ্ঠীর সহজ সরল চাচাত ভাই বেলাল এলাকার কারো সাথে কোন বিবাদে জড়িত হয়েছে বলে কেউ বলতে পারে না। যদিও পুলিশের কাছে অপর আটক মাহবুব ও রহিমের বিরুদ্ধে নেশার সাথে জড়িত থাকার এলাকাবাসীর একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সমাজ সেবক বৃদ্ধ মোবারক হোসেন (৭০) বলেন- এ হত্যাকান্ডের পর আমরা কিংকর্তব্য বিমূঢ়! বিশ্বাসই করতে পারছি না কারণে একটা দরিদ্র পরিবারের খেটে খাওয়া যুবক, তার স্ত্রী ও শিশু বাচ্চাকে এভাবে শেষ করে দিল? তিনি এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের খুজে দ্রুত গ্রেফতার করে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ধানীসাফা ইউপির সংশ্লিষ্ট ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ মানিক বিশ্বাস বলেন- একের পর এক শোকের মধ্যে নিহতের বড় ভাই হেলালকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫দিন আটকের ঘটনায় এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ হত্যাকান্ডের পর এলাকার অনেক অপরাধী গাঁ ডাকা দিয়েছে।

এদিকে, পিরোজপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তিন লাশের ময়না তদন্তের পর গত শনিবার সন্ধ্যায় নামাজে যানাযা শেষে ধানীসাফা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে নিহত আয়নাল, স্ত্রী খুকু মনি ও তিন বছরের শিশু কন্যা আশফিয়ার লাশ দাফন করা হয়। ওই গ্রামে এই প্রথম একই পরিবারের তিন জনের লাশ দাফনের ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে

এদিকে গত শনিবার সকালে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খাঁন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আ.জম. মাসুদুজ্জামান মিলু বলেন- এ ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যের সুষ্পষ্ট কারণ পাওয়া না গেলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন- এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের চাচা আব্দুল মালেক ও শামিমকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। তিনি এ হত্যাকান্ডে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, মাদক ও স্ত্রীর পরকীয়ার শত্রুতা কাজ করছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান।

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খাঁন বলেন- এ ঘটনার পর থেকেই মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান মোস্তফা স্বপনের নেতৃত্বে র‌্যাব, সিআইডি, পিবিআই, ডিবিসহ থানা পুলিশের ৫টি টীম মাঠে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ তিন খুনের নেপথ্যের কারণ ও খুনিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হব। ইতিমধ্যে অনেক তথ্য আমরা পেয়েছি। যা তদন্তের স্বার্থে বলা যাচ্ছে না।

উলেখ্য, গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে উপজেলার ধানীসাফা গ্রামের একটি বসত ঘর থেকে হাত বাধাঁ অবস্থায় জুলন্ত অটো চালক আয়নাল তার স্ত্রী খুকু মনি ও তাদের একমাত্র কন্যা শিশু আশফিয়ার লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।