মঠবাড়িয়ায় ভবন ধ্বসের আতঙ্ক নিয়ে শ্রেণিকক্ষে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

মো. মনির আকন, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর)।।
মরণঘ্যাতি করোণা ভাইরাসে দীর্ঘ ৫শ’ ৪৪ দিন বন্ধ থাকার পর রোববার থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী গত তিন’দিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। দীর্ঘ ছুটির পর কোমলমতি ছাএ-ছাএীর ক্লাশে ফেরার আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ন ভবন।

স্কুল ভবনের ছাদ ও ওয়ালের প্লাষ্টার ধসে পড়াসহ ব্যবহার অযোগ্য ভবনের কক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করতে বাধ্য হওয়ায় যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। ফলে ধসে পড়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে ওই স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে। খবর পেয়ে গত সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস বিদ্যালয় পরিদর্শণ করে দ্রত ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিকল্প ভাবে ক্লাশ চালু রাখার আশ্বাস দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায় উপজেলার ১১৬নং দক্ষিণ পূর্ব মিঠাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বিগত-১৯৯৫ইং সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে একতলা ভবন নির্মান করে। স্থানীয়দের অভিযোগ স্কুল ভবন নির্মানের শুরুতেই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগ করেও কোন ফল পায়নি।

এদিকে বিকল্প কোন ভবন না থাকায় ওই ভবনে চলে আসছে পাঠদান। দীর্ঘদিন ওই ভবন সংস্কার না করায় বহু আগেই বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ অবস্থা বিরাজ করে। এর মধ্যে করোকালীন সময়ে দীর্ঘ ১৭ মাস বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গত ও চলতি বছরের অব্যহত ভারী বর্ষণে বিদ্যালয় ভবনটি আরো নাজুক অবস্থায় পড়ে।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায় ২৫ বছর আগে নির্মিত চার কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবনের বেহাল দশা। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট না করায় হাটু পানি-কাঁদা ভেঙ্গে বিদ্যালয় প্রবেশ করছে শিক্ষার্থীরা। ভবনের নাজুক ২ কক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেনীর ৩০/৩৫ ছাত্রী ক্লাশে বসা। সবার মধ্যেই যেন এক ধরণের উৎকন্ঠা। এরমধ্যে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে কোমলমতিদের মধ্যে আতঙ্ক অরো বেড়ে যায়। বহু আগেই ছাদের ও দেয়ালের প্লাষ্টার ধসে পড়া বিভিন্ন স্থানের রড বাহির থেকে দেখা যায়। ভবনের নাজুক দরজা, জানালার গ্রীলে মরিচা পড়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে। পঞ্চম শ্রেনির শিক্ষার্থী ফারজানা জানায়, দীর্ঘদিন পর ক্লাশ খুললেও আমাদের মাঝে আনন্দ নেই। ভয়ে থাকি কখন যেন ছাদ ভেঙ্গে মাথায় পড়ে।

ওই বিদ্যালয়ের ইমন নামের পঞ্চম শ্রেনির আর এক ছাএ জানান, মেঘ দেখলে অনেক সময় ক্লাস না করে বাড়ি যাই এব পাঠদানে কক্ষে থাকলেও ভবন ধসে পড়ার আতংকে ঠিকভাবে ক্লাশে মনযোগি হতে আমারা পারছি না।

বিদ্যালয়ের জমি দাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের ভবনের সমস্যার বিষয়টি স্থানীয় এমপিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানালেও কোন সুরহা পায়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা সুলতানা প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাশ করার কথা স্বীকার করে বলেন-আমি গত ১১ জুলাই-২০১৮ তারিখ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। ওই সময়েই বিদ্যালয়ের অবস্থা নাজুক ও জরাজীর্ণ ছিল। আমি যথাসময়ে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নিকট বিষয়টি অবহিত করি। দীর্ঘ সময়েও নতুন ভবন কিংম্বা রর্তমান ভবনটি সংস্কার হয়নি।তিনি আরো জানান, জরাজীর্ণ ভবনের কারনে প্রায়ই বিদ্যালয়ে চুরীর ঘটনা ঘটে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস পরিদর্শণ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ওই বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ। খুব শীঘ্রই বিকল্প ব্যবস্থাকরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশির আহম্মেদ (অ: দা:) বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবনের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করলে দ্রুত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।