মঠবাড়িয়ায় যুবলীগ নেতার উদ্যোগে বিধ্বস্ত বাঁধ মেরামত

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি।।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সাগরের নিম্ন চাপ ও চলমান টানা বর্ষণের জলোচ্ছাসের পানিতে বলেশ্বর নদী তীরবর্তী উপজেলার বড়মাছুয়ার বেরিবাধ ধসে ৫ গ্রামে প্লাবন দেখা দিয়েছে। এতে ওই ইউনিয়নের ভোলমারা বেরিবাধ নদী গর্ভে বিলিন হওয়ায় অতিরিক্ত পানি লোকালয়ে ডুকে পড়ায় এলাকার ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দীসহ ৩ হাজার হেক্টরের ফসল প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। ফলে বাধ সংশ্লিষ্ট গ্রামবাসি গত কয়েকদিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সেই সাথে কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

এলাকার জনগনের অসুবিদা ও ভোগান্তির কথা চিন্তা করে বড়মাছুয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মো. মাইনুল ইসলাম ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজস্ব অর্থায়ানে শতাধিক গ্রামবাসির সম্মিলিত অংশ গ্রহণে ধসে যাওয়া বিপন্ন বেরিবাধ মেরামত করেন। বৃহস্পতিবার দিনভর বিপন্ন বাধে মাটি ভারাট করে এ মেরামত কাজ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, উপজেলার বড়মাছুয়া ও বলেশ্বর নদীর মোহনার দক্ষিণ পাড়ের মোসলেম শরীফ বাড়ি সংলগ্ন ভোলমারা খালের মোহনার বেরিবাধের ধসে যাওয়া অংশে শতাধিক গ্রামবাসি মাটি ভরাট করে মেরামত করে। স্থানীয় যুবলীগ নেতা মাইনুল ইসলাম এ বাধ মেরামত নির্মাণে শ্রমজীবী মানুষকে ন্যায্য মজুরি প্রদান করে এ জনস্বার্থে এ মেরামত কাজ করেন। ফলে বলেশ্বর নদীর স্বাভাবিক জোয়ারের প্লাবন হতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ৫ গ্রামের প্লাবন ঠেকানো হয়।

জানাগেছে, বলেশ্বর নদীর ভোলমারা বেরিবাধের ওই প্রায় এক কিলোমিটার বাধ ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বাধটির ওই অংশ চরম ঝুকির মধ্যে পরে। আম্ফানের পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত বাধ মেরামত করা হয়নি। গত ১০ দিনের টানা বর্ষণ ও বলেশ্বর নদী লাগোয়া অস্বাভাবিক জোয়ারে ৩/৪ ফুট পানি বৃদ্দিতে ভোলমারা খালের মোহনার বাধের ১০০ মিটার অংশ সম্পূর্ণ ধসে যায়। এতে জোয়ারের পানি ঢুকে ৫ গ্রামের নিম্নাঞ্চল ডুবে যায়। প্রতিদিন ও ভাঙা বাধ দিয়ে জোয়ারের পানি প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করছে।

সংশ্লিষ্ট ৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ হারুন অর রশিদ জানান, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ভোলমারা মোহনা খালের ওই বাধের অংশে একটি স্লুইজগেট নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। দরপত্র আহবানের পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ শুরু করা মূহুর্তে স্থান নির্ধারণের জমি নিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসির মধ্যে জটিলতা দেখা দেয়। ফলে ঠিকাদার সময় মত নির্মাণ কাজ শুরু করতে না পারায় প্রকল্পের সমুদয় অর্থ ফেরত চলে যায়।

এ বিষয়ে বড়মাছুয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ভোলমারা বেরিবাধের ১ কিলোমিটার অংশ ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ধসে গেছে। এই অংশে বাধ নির্মাণ ও ব্লক নির্মাণ কাজ থমকে আছে। ভোলমারা মোহনায় স্লুইজগেট না থাকায় প্রতিদিন স্বাভাবিক জোয়ারে ৫ গ্রামের কৃষিজমি ও বসতিতে বলেশ্বর নদীর লবণ পানির প্লাবন দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ৫ হাজার পরিবারও ৩হাজার হেক্টর জমির ফসলও ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখীন। এমন অবস্থায় আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শতাধিক গ্রামবাসি শ্রমিক নিয়ে ১০০ মিটার অংশের বিপন্ন বাধে মাটি ভরাট করে সাময়িক মেরামত করেছি। তবে এখানে ভোলমারা খালে একটি স্লুইজগেট নির্মাণ অতি জরুরী।

এ বিষয়ে পিরোজপুর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বালি বলেন, গ্রামবাসির উদ্যোগে ভাঙা বাধ মেরামত প্রশংসনীয়। তবে ভোলমারার ওই স্থানের বাধের ৩২৯ মিটার অংশ উচুকরণ ও ব্লক নির্মাণের কাজ প্রকল্প ভূক্ত। আগামী অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে বাধ নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মী ভৌমিক বাধ ধসের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ভোলমারা বাধের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের প্লাবনে বাধের ভোলমারা মোহনায় ধস নেমেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে বাধের কিছু অংশ মেরামতের বিষয়টি প্রশংসনীয়।