মহাকাশ শক্তি হওয়ার দৌড়ে আর্টেমিস চুক্তিতে স্বাক্ষর ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
আর্টেমিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ইসরায়েল। এই পদক্ষেপকে মহাকাশ শক্তি হওয়ার দৌড়ে দেশটির একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রবিবার (৩০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য হিল।

মহাকাশে শান্তিপূর্ণভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম নিশ্চিত করতে এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। সর্বশেষ এ তালিকায় যুক্ত হলো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল।

চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলো হলো ব্রাজিল, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, মেক্সিকো, নিউ জিল্যান্ড, পোল্যান্ড, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, ইউক্রেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য। নাসার এই আর্টেমিস কর্মসূচিতে চাঁদের মাটিতে এবং মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

মহাকাশে ইসরায়েলের প্রথম বড় ধরনের মিশন ছিল ২০১৯ সালে। ওই বছর দেশটির একটি মহাকাশযান অবতরণের আগেই দৃশ্যত ইঞ্জিনের ত্রুটির জন্য চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। ব্যর্থ হয় বেরেশিট মিশন নামের ওই চন্দ্রাভিযান। মিশনটি পরিচালনা করেছিল স্পেসআইএল নামের গুগল লুনার এক্সপ্রাইজে অংশগ্রহণকারী ইসরায়েলের একটি বেসরকারি গ্রুপ।

এবার একটি অরবিটার এবং দুইটি ল্যান্ডার নিয়ে দ্বিতীয় বেরেশিট মিশনের উদ্যোগ নিচ্ছে স্পেসআইএল। আর্টেমিস চুক্তির আরেক স্বাক্ষরকারী সংযুক্ত আরব আমিরাত অবতরণকারীদের জন্য যন্ত্র সরবরাহ করে এই মিশনে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের প্রথম আরব-ইসরায়েলি মহাকাশ মিশনে পরিণত হচ্ছে এটি।

দ্য হিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, পারস্পরিক সুবিধার জন্য ইসরায়েল এবং তার সাবেক শত্রুদের জোটবদ্ধ হওয়ার একটি দৃষ্টান্ত হবে এই বেরেশিট ২ মিশন। এই মিশনের আওতায় ২০২৪ সাল নাগাদ চাঁদে অবতরণ করতে চায় স্পেসআইএল।

ইসরায়েল আর্টেমিস চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে দেশটির কোম্পানিগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চন্দ্রাভিযান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। স্টেমরাড নামের একটি ইসরায়েলি কোম্পানি লকহিড মার্টিনের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অ্যাস্ট্রোরাড নামে একটি অ্যান্টি-রেডিয়েশন ভেস্ট তৈরি করেছে, যা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পরীক্ষা করা হয়েছে। ভেস্টটি ভবিষ্যতের নভোচারীদের গভীর মহাকাশে বিকিরণ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে।

ঘরের কাছেই সমস্যায় থাকা ইসরায়েল কেন মহাকাশ শক্তি হতে চায়? এর একটি উত্তর হতে পারে, প্রযুক্তি খাতের পাওয়ার হাউস হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চায় দেশটি।