মহিপুরের ৩০ তালগাছ উপড়ে ফেলার ঘটনা তদন্তে গিয়ে অনিয়ম পেলেন ইউএনও

কুয়াকাটা প্রতিনিধি॥
পটুয়াখালী মহিপুর ইউনিয়নের রাস্তার কাজ করতে গিয়ে ৩০টি তালগাছ উপড়ে ফেলার ঘটনার সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে আরও অনিয়ম পেয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সোমবার (০৮ মে) সকাল ১০ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সরেজমিনে তদন্তে যান। এসময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি’র) উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণসহ এলজিইডি’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তদন্তকালীন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাজী মোঃ ফজলু গাজী উপস্থিত থাকলেও ইউপি সদস্য আব্দুস সোবাহান অনুপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভানেত্রী মোসাঃ রোজিনা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক মোসাঃ নুরুন্নাহার বেগমকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডেকে নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এলজিইডির জলবায়ু সহিষ্ণু গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় মহিপুর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রামে ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬০০ মিটার দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রস্থ মাটির সড়ক সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করছে মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদ। সড়কটির উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে তালগাছগুলো উপড়ে ফেলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কিছু গাছের চারা কাটা হয়েছে। এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে গত রোববার (৭ মে) বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এ.কে.এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বারকে তলব করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের নামে বন বিভাগের লাগানো এসব তাল গাছ কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি কর্মকর্তার ব্যাখ্যাও চেয়েছেন আদালত। আগামী ১৮ মে তাদের স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি কর্মকর্তা যৌথভাবে সরেজমিন তদন্ত করার নিষেধ দেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো আদালতের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট শেখ সোহেল রানা।

এলজিইডি’র কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল বারী পূর্ণ জানান, জলবায়ু সহিষ্ণু গ্রামীণ অবকাঠামো (ঈজজওচ) প্রকল্পের আওতায় মহিপুর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রাম ৯ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রশস্ত মাটির কাজের ঠিকাদার চুক্তিবদ্ধ হয় স্থানীয় নারী শ্রমিক সভাপতি মোসাঃ রাজিনা বেগম ও সেক্রেটারী মোসাঃ নুরুন্নাহার বেগম। ঈদের ছুটিতে কর্মকর্তা কর্মচারীরা ছুটিতে থাকার সুযোগে অফিসকে অবগত না করে তারা ভেকু দিয়ে কাজ শুরু করায় ৩০ এপ্রিল তাদের ভেকু প্রত্যাহার প্রসঙ্গে চিঠি দেয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশে সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তালগাছ উপড়ে ফেলার বিষয়টি আমি আগেই খোজ খবর নিয়ে সত্যতা পেয়েছি। আজ সরেজমিনে এসে তালগাছ উপড়ে ফেলার পাশাপাশি আরও কিছু অনিয়ন পেয়েছি। তিনি বলেন, রাস্তার মাটি কাটতে কোথাও কোদালের ব্যবহার করা হয়নি। স্কুভিটর দ্বারা (মাটি কাটার মেশিন বা যস্ত্র) মাটি কাটা নিষেধ থাকলেও তা মানা হয়নি। সড়কের পাশে গভীর গর্ত করে ফসলি জমি নষ্ট করা হয়েছে।

ইউএনও আরও বলেন, ’এলসিএস সভাপতি মোসাঃ রোজিনা ও সেক্রেটারী মোসাঃ নুরুন্নাহারকে তথ্য সহায়তার জন্য কলাপাড়া আনা হয়েছে। এ কাজের সাথে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য নেয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।