মহিপুরে ফাঁস দিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

কুয়াকাটা প্রতিনিধি।।
পটুয়াখালীর মহিপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে শান্ত আক্তার (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (০৭ জুলাই) সন্ধ্যায় লতাচাপলী ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামে ঘটনা ঘটে। তবে পরিবার আত্মহত্যার দাবি করলেও ময়না তদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। নিহত শান্তা লতাচাপলী ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের আবুল হোসেন গাজীর পালিত মেয়ে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধা ৬ টায় নিজ ঘরের বারান্দায় টিনের চালের রুয়ার সাথে ওড়না পেচিয়ে মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শান্তা আক্তার আত্মহত্যা করেন। শান্তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় জীবিত ভেবে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কোন চিকিৎসক না থাকায় দুই ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ডাক্তার মানিকুল আলম এসে শান্তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শান্তার বড় ভাই হানিফ গাজী বলেন, আমার খালাতো ভাই জুনায়েদের সাথে শান্তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি আমরা জানতে পেরে পারিবারিকভাবে উপযুক্ত সময় বিবাহ দেওয়ার পথে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তারপরও কেন আত্মহত্যা করল বুঝতে পারছি না। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে হানিফ গাজী বলেন, শান্তাকে একেবারে ছোট্ট বেলা আমার পিতা-মাতা লালন-পালন করতে আনেন। শান্তা জানেই না ও আমার পিতা-মাতার পালিত সন্তান । আমিও ওকে আপন বোনের মত দেখেছি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, খালাতো ভাইয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কের বিষয় নিয়ে শান্তার মা বকা দিয়েছেন। মায়ের বকুনিতে রাগে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, নিহত শান্তা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে পারিবারিক কলোহের সৃষ্টি হয়। আর সেই কলোহের জের ধরেই সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার আবুল খায়ের বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে কি কারণে মারা গেছে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাব।