মানব সেবায় নেমে বিপদে রাজাপুর ইসলামিয়া ফার্মেসী, ওষুধ সরবরাহ বন্ধ

রাজাপুর প্রতিনিধি।।
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলায় অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীদের চাপে চলমান করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে কাজ করে যাওয়ার মনোভাবে মানব সেবায় এগিয়ে আসা উপজেলার স্বানামধন্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ওষুধ সরবারহ বন্ধ করে দিলো কোম্পানিগুলো। ওষুধ সরবারহ বন্ধ রাখায় সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। দূর-দূরান্ত থেকে ওষুধ এনে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রতিষ্ঠান পরিচালক মোঃ আহসান হাবিব সোহাগ।

জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারনে বেশীর ভাগ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। মানুষের অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়। মানবিক বিষয়টি চিন্তা করে ইসলামিয়া ফার্মেসী ও সোহাগ ক্লিনিক পরিচালক মো. আহসান হাবিব সোহাগ গত ২৪ মে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঔষধে ও অপারেশনে ১০% মূল্য ছাড়ের ঘোষনা দেন। এ ঘোষনার পর রাজাপুর ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির লোকজন বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র ও হয়রানী শুরু করেন। কোম্পানিকে চাপ ও হুমকি দিয়ে ইসলামিয়া ফার্মেসী ও সোহাগ ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন।

এ বিষয়ে স্কয়ার এর রাজাপুর এমপিও নিজাম বলেন, ঔষধ ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন আছে বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি। রাজাপুর কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি বরিশাল বিভাগীয় কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির মাধ্যমে কোম্পানিকে হুমকি দেয়া হয়েছে যে ইসলামিয়া ফার্মেসীতে ও সোহাগ ক্লিনিকে ওষুধ দেওয়া হলে তারা টোটাল স্কয়ার কোম্পানির সাথে ব্যবসা বন্ধ করে দিবে। শুধু স্কয়ারের জন্য না এটা সকল ঔষধ কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে। তাই বরিশাল অফিস থেকে আমাকে ঔষধ দিতে নিষেধ করে দিয়েছে, শুধু আমাকে না সকল কোম্পানির লোকদের ঔষধ দিতে নিষেধ করে দিয়েছে। ইসলামিয়া ফার্মেসীতে ও সোহাগ ক্লিনিকে ঔষধ দিলে আমাদের গাড়ি আটকে দেবে ও ঔষধের বিল বন্ধ করে দিবে। তবে ঔষধ সরবরাহ করতে না পারায় ব্যবসায়ীক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।

ইনসেপ্টা ঔষধ কোম্পানির এমপিও আলিম বলেন, অফিস থেকে আমাকে ঔষধ দিতে বন্ধ করতে বলেছে তাই আমি ঔষধ দেওয়া বন্ধ করেছি। এবিষয়ে কিছু জানার থাকলে অফিসে যোগাযোগ করুন।

বেক্সিমকো ঔষুধ কোম্পানির এমপিও ওলিউল্লাহ বলেন, বরিশাল বিভাগীয় কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির থেকে আমাদের বরিশাল অফিসকে ইসলামিয়া ফার্মেসীতে ও সোহাগ ক্লিনিকে ঔষুধ দেওয়ার জন্য নিষেধ করেছেন। বরিশাল অফিস থেকে আমাকে ইসলামিয়া ফার্মেসীতে ও সোহাগ ক্লিনিকে ঔষধ দিতে নিষেধ করেছে তাই আমি ঔষধ সরবরাহ বন্ধ রেখেছি।

ইসলামিয়া ফার্মেসী ও সোহাগ ক্লিনিক পরিচালক মোঃ আহসান হাবিব সোহাগ জানান, করোনা ভাইরাসে মানুষের অর্থ নৈতিক সংকট দেখা দিলে আমার প্রতিষ্ঠান থেকে ঔষধে বিশেষ মুল্যছাড় ও অপারেশনে ১০% মুল্যছাড় দেবার ঘোষণা দেই। ছাড়দেবার ঘোষণার পর থেকেই রাজাপুরের কিছু অসাধু ঔষধ ব্যাবসায়ী আমার সেবা কার্য বন্ধ করতে আমার দোকানে হামলা করে উল্টো আমিসহ আমার প্রতিষ্ঠানের ৮জন কর্মচারীর নামে ২ টি মিথ্যা মামলা করে এবং ঔষধ কম্পানির লোকদের ইসলামিয়া ও সোহাগক্লিনিকে ঔষধ দিতে নিষেধ করে। আমি জনগনের সেবা করতে ও মিথ্যা মামলা দুটি প্রত্যাহারসহ ঔষধ সরবরাহের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।