মামলা জটিলতা: দশমিনা মডেল মসজিদ নির্মাণে অনিশ্চয়তা

সঞ্জয় ব্যানার্জী, দশমিনা (পটুয়াখালী)।।
মামলা জটিলতায় পটুয়াখালীর দশমিনা মডেল মসজিদ নির্মাণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় মুসল্লিদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ইসলামী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে দশমিনা সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে ১২কোটি ৭লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ঢালি কনস্ট্রাকশন, মাসুদ এন্ড ব্রাদার্স ও গাজী কনস্ট্রাকশন যৌথভাবে দশমিনা মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ পায়। মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরুর পর জমির মালিকানা দাবি করে ২০২১সালে দশমিনার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. নুর হোসেন। ওই মামলায় নিষেধাজ্ঞা জারির পর মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন।

এবিষয়ে দশমিনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট সিকদার গোলাম মোস্তফা বলেন, শত বছর আগে ওই স্থানে মসজিদ নির্মাণ হয় এবং জমির মালিকেরা দলিল অথবা মৌখিকভাবে মসজিদে জমি দান করে গেছেন সেই জমির মালিকানা দাবি করে মামলা দিয়ে একটি মহল মডেল মসজিদ নির্মাণ অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মসজিদের মালিকানায় ৫৪শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে ১১দশমিক ১১শতাংশ জমির দলিল মসজিদের নামে রয়েছে। বাকি জমির মালিকানা দাবি করে নীলজান বিবি, হামিদ মহল্লাদার, কবুলচান বিবি ও আনীলা খাতুনের ওয়ারিশরা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

এবিষয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফখরুজ্জামান বাদল বলেন, একটি মহলের ইন্ধনে জমির মালিকানা দাবিদার ব্যক্তিরা মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। তিনি আরও বলেন, মসজিদের জমির মালিকানা দাবিদারদের সঙ্গে একাধিকবার সমঝোতা বৈঠক করা হলেও তারা বিনামূল্যে মসজিদের নামে জমির দলিল দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এবিষয়ে দশমিনা মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আদালতের নিষেধাজ্ঞার চিঠি পেয়ে মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, দশমিনা মডেল মসজিদ নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ফাইল প্রেরণ করা হয়েছে। যেহেতু আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাই মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

মডেল মসজিদের জমির মালিকানা দাবিকারী মো. নুর হোসেন ও মো. এনায়েত হোসেন বলেন, বাপ-দাদার রেখে যাওয়া জমি অধিগ্রহণ করে আমাদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিলেই আমরা জমির মালিকানা মসজিদের নামে ছেড়ে দেবো।
এবিষয়ে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, মডেল মসজিদ নির্মানের লক্ষে জনগনকে নিয়ে আলোচনায় বসবো। তিনি আরও বলেন, মামলা বিষয়ে প্রয়োনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।