মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে আ’লীগ নেতার সংবাদ সম্মেলন

মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী। রবিবার (০৮ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দেউলী-সুবিদখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মনির খান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, চরখালী গ্রামে বসবাসকারী আব্দুল ওদুদ শিকদার লেমুয়া গ্রামে বসবাসকারী জাহাঙ্গীর খলিফাদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে উপজেলা নির্বাহী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা আমলে নিয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাকে তদন্তভার দিলে তিনি গত ২৬ সেপ্টেম্বরে বিকেলে বিরোধপূর্ণ জমির স্থানে তদন্তে গেলে সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে উভয়পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা হালিম হাওলাদার তার সাথে থাকা পিস্তল বের করে গুলি করার হুমকি দেন। এর যের দরে পরের দিন ২৭ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীর খলিফা ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মির্জাগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।

এই ঘটনার কিছুদিন পরে আমি জানতে পারি আমাকে আসামি করে ঘটনার একদিন আগে ২৫ সেপ্টেম্বর মির্জাগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চুরি, ছিনতাই ও শ্লীলতাহানের একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। বিএনপি নেতা হালিম হাওলাদার এর ভাইগ্না ওয়াদুদ সিকদার এই মামলার বাদী। আমি আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় সুপরিকল্পিতভাবে ঘটনা ঘটার আগেই এই মামলা দায়ের করেন। আমি দেউলির গোহাটের ইজারাদার। মামলায় যে মিথ্যা ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে সে সময় আমি গরুর বাজারে ছিলাম। শুধুমাত্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলার অধিকাংশ সাক্ষী জানেনা ঘটনার খবর। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তারা বিভিন্ন সময় আমাকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলেন। তারই ধারাবাহিকতার অংশ এটি। আমি এই মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার দাবি করছি।

মামলার সাক্ষী কামাল হোসেন, আব্দুস সালাম ও রাজ্জাক হোসেন রিপনের সাথে কথা বললে তারা জানন, ঘটনার ব্যাপারে আমাদের জানা নেই। ঘটনার ব্যাপারে সাক্ষীরা সঠিক কোন জবাব দিতে পারেনি। সাক্ষী লাইলি বেগম ও আমেনা বেগমের কাছে শীলতাহানির ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা পরে কথা বলবেন বলে দৌড়ে পালিয়ে যান।

মামলার বাদী আব্দুল ওদুদ শিকদারের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে তার সাথে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি