মুলাদীতে আড়িয়াল খাঁ সেতুর সংযোগ সড়ক না হওয়ায় ৯ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষের চরম ভোগান্তি

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী।।

বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদের উপর ৭০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সেতুটির সংযোগ সড়কের কাজ না হওয়ায় বালুর বস্তা দিয়ে এলাকার হাজার হাজার জনসাধারণ যাতায়াত করছে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে।
এ সেতুর উপর দিয়ে নাজিরপুর, চরনাজিরপুর, সাহেবের চর, জালালপুর, নাতিরহাট, কুতুবপুর, বোয়ালিয়া, রামচর ও কাচিরচরসহ ৯ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার লোক যাতায়াত করে।

জানা গেছে রাজধানীর সাথে মুলাদী উপজেলার সড়ক যোগাযোগের উন্নতির লক্ষ্যে আড়িয়াল খাঁ নদের উপর নাজিরপুর ইউনিয়নে সাহেবেরচর-রামারপোল সংযোগ সেতুর কাজ ২০১৪ সালে শুরু হয়ে ২০১৮ সালে শেষ হয়। সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ পেয়েছেন বরিশালের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কনস্টাকশন লিঃ। ২০১৮ সালের প্রথম দিকে ৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যায়ের সংযোগ সেতুর বালু ভরাট করেই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেয়। বর্ষার সময় পানিতে অধিকাংশ বালু নেমে গেলে সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ঠিকাদার কাজ না করায় দীর্ঘ ৩ বছরেও ওই সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়নি। নাজিরপুর গ্রামের পিন্টু সিকদার জানান সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই খেয়াঘাটের ইজারা বন্ধ করায় সেখানে খেয়া চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। অপর দিকে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতু দিয়ে যাতায়াত করা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার আবুল কালাম ওরফে কালু জানান প্রয়োজনীয় মাটি না পাওয়ায় সংযোগ সড়কের কাজ করা যাচ্ছে না। সড়ক বিভাগের বিশেষজ্ঞ দলের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সড়ক বিভাগ যে পরামর্শ দিবেন সেই মোতাবেক সংযোগ সড়কের কাজ করা হবে। এলজিইডি’র প্রকৌশলী জিয়াউল হক জানান সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কয়েক বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকাদার কাজ করতে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্ষ মৌসুমের আগেই যদি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা না হয় তাহলে যতটুকু বালু রয়েছে তাও ধ্বসে পড়ে আরো দুর্গতির সিমা ছাড়িয়ে যাবে বলে এলাকাবাসী জানান।