মুলাদীতে গলইভাঙ্গা খাল সংস্কারের অভাবে ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী।।

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় গাছুয়া ইউনিয়নে সংস্কার না হওয়ায় ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে গলইভাঙ্গা খাল। এক সময়ের নৌ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এ খালটি ভরাট হয়ে চরকালেখান গলইভাঙ্গা এলাকার সাথে উপজেলা সদরের নৌ যোগাযোগ বিলুপ্ত হতে চলেছে। এছাড়া শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে কয়েক হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে একই জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জানাগেছে মুলাদী বন্দরের সাথে চরকালেখান গলইভাঙ্গা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে গলইভাঙ্গা খালটি ব্যবহৃত হতো। ইঞ্জিন চালিত নৌকা, সাধারণ নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করতো। বর্ষা মৌসুমে খালটিতে পানি থাকলেও শুকনো মৌসুমে সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। ফলে কোনো প্রকার নৌযান চলাচল করতে পারেনা।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাইনুল আহসান সবুজ জানান উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ এবং নদী পথে পণ্য পরিবহনের জন্য গলইভাঙ্গা খালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে খালটি পলি মাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় নৌযান চলাচল করতে পারছে না। খালে আগে যে গভীরতা ছিলো বর্তমানে তা অর্ধেক হয়ে গেছে। এভাবে ভরাট হতে থাকলে অচিরেই খালটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ফলে বর্ষা মৌসুমেও নৌযান চলাচল করতে পারবেনা। গলইভাঙ্গা এলাকার কৃষক জাফর আলী জানান খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকার কারণে জমিতে ইরিধান চাষ করা সম্ভব হয়নি। পানের বরজ, রবিশষ্য চাষাবাদে ব্যহত হচ্ছে। খালটির পাশ ঘিরে রয়েছে ইটের ভাটা ও স্ব-মিলের ব্যবসা। খালটি শুকিয়ে থাকায় ব্যবসায়িরা তাদের মালামাল নিয়ে নৌপথে যেতে পারে না। সড়ক পথে অনেক খরচ পড়ে যায়। তাই এ খালটি খনন করা প্রয়োজন। কৃষক আব্দুর রহিম জানান কয়েক বার খালটি খনন করা হলেও বর্ষা মৌসুমে পলিমাটি এসে আবার ভরাট হয়ে যায়। অবিলম্বে খালটি পুণঃখননের জন্য স্থানীয়রা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোড়ালো দাবী জানিয়েছে।