মুলাদীতে চেয়ারম্যান পদে তিন জনই আ’লীগ নেতা, ভোটের মাঠে বিভক্ত

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী (বরিশাল)।।
বরিশালের মুলাদী উপজেলার নির্বাচন আগামী ২১মে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা আটঘাট বেঁধে নেমেছে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। প্রার্থীদের বিরামহীন গণসংযোগে উত্তাল নির্বাচনী মাঠ। সাদা-কালো ও রঙিন পোস্টারে ছেয়ে গেছে সর্বত্র। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে মিছিল, মিটিং, মাইকিং, পথসভা, উঠোন বৈঠক ও গণসংযোগ। প্রার্থীরা প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জের অলিগলি চষে বেড়াচ্ছে আর দ্বারে দ্বারে গিয়ে দিচ্ছেন নানারকম প্রতিশ্রুতিও।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা পরিষদের বর্তমানসহ ২বার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব তারিকুল হাসান খান মিঠু (আনারস), কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জহির উদ্দিন খসরু (দোয়াত কলম) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার তারেক আহম্মেদ খান (ঘোড়া) প্রতীক।

ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও বর্তমানসহ ২বার ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাইনুল আহসান সবুজ (বই) ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অহিদুজ্জামান আনোয়ার তালুকদার (উড়োজাহাজ) প্রতীক।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদিকা ও বর্তমানসহ ৩বার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শামিমা নাসরিন (ফুটবল), জাতীয়পার্টি মনোনিত মোসাঃ মাকসুদা আক্তার শোভা (লাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

দলীয় প্রতীক না থাকায় স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে দলটির একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। একই দলের পদধারী একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে নানা ধরনের গ্রুপিং তৈরি হয়েছে। ফলে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের গলার কাটা এখন আওয়ামী লীগই। এক কথায় ভোটে মাঠে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। তাদের অনুসরণ করতে গিয়ে নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কেহ আবার বলেন এ নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদেরও মূল্যায়ন বাড়বে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের তিনটি পদের সকল প্রতিদ্বন্দ্বীই আওয়ামী লীগের নেতা। বিএনপিসহ বিরোধী দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তাই একটি দল ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো আগ্রহ নেই।

স্থানীয় বিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রার্থীরা যদি কৌশলে কিংবা যেকোন উপায়ে ভোটকেন্দ্রে বিএনপিসহ অন্যন্য দলের নারী ভোটার উপস্থিত বাড়াতে পারেন এবং ভোটারও যদি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে তবে এবার আনারস ও দোয়াত কলমের প্রতীকের মধ্যে লড়াই হবে।

উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ও ১টি পৌরসভার ৭২টি ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৫৪৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৮ হাজার ৭৮৪জন ও মহিলা ভোটার ৮৪ হাজার ৭৬৩ জন। মুলাদী পৌরসভা ১৯ হাজার ৫১১, বাটামারা ইউনিয়ন ২২ হাজার ৩২৮, নাজিরপুর ইউনিয়ন ২১ হাজার ৬২৫, সফিপুর ইউনিয়ন ৩৪ হাজার ৩৮৭, চরকালেখান ইউনিয়ন ১৯ হাজার ২৫৫, গাছুয়া ইউনিয়ন ১৬ হাজার ৫০৭, মুলাদী সদর ইউনিয়ন ১৯ হাজার ও কাজিরচর ইউনিয়ন ২০ হাজার ২৩১জন।