মুলাদীতে ছাদ বাগান করে সহকারী পুলিশ সুপার মতিউর রহমানের সফলতা

ভূ্ইঁয়া কামাল, মুলাদী (বরিশাল)।।
পাকা বাড়ির খালি ছাদে বেড তৈরি করে অথবা টবে বা ড্রামে চাষাবাদ করে যে বাগান গড়ে তোলা হয় তাকেই ছাদবাগান বলা হয়। ইটের তৈরি যেকোন আবাসিক, বাণিজ্যিক ভবন বা কলকারখানার ছাদে নান্দনিক বাগান গড়ে তোলা যায়। ছাদবাগানে যেমন ফুল ও শোভাবর্ধনকারি গাছ রোপন করা যায়, তেমনি ফল, শাকসবজি, মশলা, ওষধি গাছসহ নানাবিধ উদ্যান ফসলও চাষাবাদ করা যায়। এতে করে একদিকে টাটকা ও নিরাপদ খাবারের সংস্থান করা যায়, অন্যদিকে শহুরে যান্ত্রিক জীবনেও সুশীতল ছায়া, পশুপাখির আশ্রয়, খেলা ও বিনোদনের স্থান নিশ্চিত করা যায়। অবসরেরও খোরাক যোগায়।

ছাদে বাগান সৃষ্টি করে তা থেকে সুফল আহরণ করার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিরাপদ ফল সবজি প্রাপ্তি সুবিধা নিশ্চিত করণে অনেকেই ছাদে বাগান তৈরি অনুপ্রেরণা পাচ্ছে। বয়স্ক নর-নারী অবসর বিনোদনের প্রয়োজনে ছাদ বাগান সৃষ্টিতে অনেকে আগ্রহী হয়। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ছাদ বাগান করে গাছপালার সংস্পর্শে এসে বিচিত্র আনন্দের স্বাদ গ্রহণ করে। অনেক বৃক্ষ প্রেমিক পরিকল্পিতভাবে নিজ হাতে ছাদে বাগান করে সৃষ্টির আনন্দ ও গাছপালার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন।

তেমনি বরিশালের মুলাদী উপজেলায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ছাদে বৃক্ষ প্রেমিক মুলাদী ও হিজলা থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মতিউর রহমান নিজস্ব উদ্যোগে ১ থেকে ২ বছর আগে ছাদ বাগান করে ত্বীন গাছ, ড্রাগন, মিশরী ডুমুর, থাই জাম্বুরা, চেরিফল (টক), মালটা, চায়না কমলা, বাড়ি ফোর আম, ছবেদা থাই লম্বা, ছবেদা থাই গোল, বাউকুল, আপেল কুল, কাঠ বাদাম, মিষ্টি তেতুল, স্টোবেরি, লাল পেয়ারা গাছ, বেলি ফুল, কাঠ গোলাপ, কাটা মুকুট চায়না, এ্যালোবেড়া, বনসাই পাকুর, পুদিনা পাতা, হাসনা হেনা, বোতাম ফুল, নয়না তারা, শিউলি ফুল, বাবুই টাইম ফুলসহ প্রায় দুইশত ফল ফুলের গাছসহ ও কিং হলুদ কবুতর, পটারবল কবুতর, কালোলক্ষ্যা মৈয়ুরী, লাল লাহরী, কাল লাহরী, আফছান গ্রিজেল রেসার, মিনি রেসার, সাদা রেন্ট র‌্যাংস ও ব্লুভার লক্ষ্যাসহ বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর পালনের মাধ্যমে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। ফল গাছে ফল ধরেছে আর ফুল গাছে ফুল ফোটেছে। সবার দৃষ্টি পড়েছে ত্বীন গাছের ফলের দিকে। পরিচর্যার কারণে মক্কা আর মদিনার মাটিতে যে ত্বীন ফল ধরে সেই ফল ধরেছে মুলাদীর মাটিতে। বিভিন্ন ধরনের ফল আর ফুলে গাছের ডালায় থোকায় থোকায় ফল ধরে ছাদটি দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে। মুলাদী উপজেলায় কোন ছাদ বাগানে ত্বীন গাছের চাষ করতে দেখা যায়নি। ত্বীন গাছের চাষ ছাদ বাগানে এই প্রথম দেখা গিয়েছে। ছাদ বাগানের সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করে যাচ্ছেন কনোস্টবাল অহিদুল ইসলাম।

বৃক্ষ প্রেমিক সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মতিউর রহমান বলেন, আমি মুলাদী উপজেলার মানুষের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য ছাদে টবে বা ড্রামে করে বিভিন্ন প্রজাতির ফল, ফুলের গাছ ও বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর পালন করছি। যাদের ছাদের জায়গা খালি পড়ে আছে তারা বিভিন্ন প্রজাতির ফল, ফুলের গাছ, শাকসব্জি লাগাতে পারে ও বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর ও মুরগি পালন করতে পারে। একটা সুন্দর ছাদ বাগান দিতে পারে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সারা বছর ধরে পরিবারের চাহিদামতো নিরাপদ ফল-সবজি।

যারা অবসরে সময় কাটান তাদের অবসর সময়টুকু আনন্দেই কাঁটিয়ে দিতে পারবেন আপনার নিজের বাগানে। ছাদে ফুলের বাগান করতে হলে দরকার হয় বিশেষ পরিচর্চার। ঠিকমতো ফুলের গাছের যত্ন নিলে আপনার ছোট্ট বাগানটিও ভরে উঠবে নানা ফুলের সমারোহে।

ফুল শুধু মাত্র তার রূপ দিয়ে মুগ্ধ করে না, সেই সাথে আমাদের দেয় অনাবিল মানসিক প্রশান্তি। ফুল ভালোবাসে না এমন মানুষ হয়তো পাওয়া যাবে না কোথাও। যাদের মনের কোনায় সুপ্ত বাসনা আছে, তারা ইচ্ছে করলে বাসার ছাদেই তৈরি করে নিতে পারেন নিজের ছোট্ট এক টুকরো বাগান।