মুলাদীতে জরাজীর্ণ সেতু দিয়ে চলাচলের সময় গাড়ী উল্টে তিনজন আহত

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী (বরিশাল)।।
বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের সোনামদ্দিন বন্দরসংলগ্ন খালের উপর জরাজীর্ণ সেতু দিয়ে চলাচলের সময় গাড়ী উল্টে পড়ে তিনজন আহত হয়েছে। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহনসহ হাজারো জনসাধারণ। সেতুটি আট বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে খালটির ওপর সেতু নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের সময়ই সেতুটি অনেক ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না রেখেই সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তর। পাশাপাশি দুটি গাড়ী চলাচলের সময় দুর্ঘটনার স্বীকার হয়। ২০১৫ সালের দিকে অনেকগুলো রেলিং ভেঙে পড়ে ও সেতুটির পাটাতনের বিভিন্ন স্থান ভেঙে যায়। সেতুর এক পাশের রেলিং ধসে যাওয়ায় সেতুটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে সেতুটিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সেতুটির উপর দিয়ে সফিপুর ও বাটামারা ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে মুলাদী সদরসহ বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। ৫ মার্চ একটি ভ্যান গাড়ি চলাচলের জায়গা দিতে গিয়ে নিচে পড়ে ভ্যান চালক আহত হয়েছে। এরপর ৮মার্চ একটি ইজিবাইক সেতুর নিচে উল্টে পড়ে গিয়ে চালকসহ দুজন আহত হয়েছে।

উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এম এ গফুর মোল্লা জানান, অনেক আগে নির্মিত সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং রেলিং না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

বন্দরের ব্যবসায়ী আলমাছ উদ্দীন জানান, সেতুটি অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। কয়েকবার স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে সংস্কার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, সেতুটি অনেক কম প্রস্থের। তাই গাড়ি চলাচলে সমস্যা হয়। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কয়েক বছর ধরে ভাঙা সেতুটিতে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে।

একই গ্রামের আবির হোসেন বলেন, ‘সোনামদ্দিন বন্দরের সেতুটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মুন্সীরহাট, বাটামারা, সফিপুর নোমরহাটসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ সেতু দিয়ে চলাচল করে। সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’

সফিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছা হিমু মুন্সী বলেন, ‘সোনামদ্দিন বন্দরসংলগ্ন খালের সেতুটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অটোরিকশা, ভ্যান, লেগুনা, মোটরসাইকেল চলাচল করে। এটি সংস্কারের জন্য এলজিইডিতে চাহিদা দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা প্রকৌশলী তানজিলুর রহমান জানান, সেতু নির্মাণের জন্য বরিশাল নির্বাহী প্রকৌশল দপ্তরে চাহিদা দেওয়া আছে। বরাদ্দ পেলে সোনামদ্দিন বন্দর খালে দ্রুত সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।