মুলাদীতে নবগঠিত শ্রমিক দলে যোগ্যরা স্থান না পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ

মুলাদী প্রতিনিধি।।
মুলাদীতে নবগঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলে যোগ্যরা স্থান না পাওয়ায় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া নবগঠিত উপজেলা ও পৌর পৃথক ৬১সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটির সহসভাপতি কালাম মোল্লা নামের কোনো লোকের অস্তিস্ত খুজে পাওয়া যায়নি।

যোগ্য স্থান না পাওয়ায় পৌর শ্রমিক দলের কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি কমিটি ঘোষণার পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি দেওয়া হয়েছে পাশ্ববর্তী উপজেলায় বসবাসরত এক ব্যক্তিকে। এছাড়াও নানান অভিযোগ রয়েছেন উপজেলা ও পৌর শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত না নিয়ে কাউন্সিল ছাড়াই কমিটি করায় দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা করেছেন শ্রমিক দল নেতাকর্মীরা। অর্থবাণিজ্যের মধ্য দিয়ে নামে মাত্র শ্রমিক দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন শ্রমিক দলের সাধারণ কর্মীরা।

জানা গেছে, দলীয় কাউন্সিল ও নেতাকর্মীদের মতামত ছাড়াই গত ১০ ফেব্রুয়ারি মুলাদী উপজেলা ও পৌর শ্রমিক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর পরই শ্রমিক দল নেতাকমীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়। হঠাৎ করেই কমিটি ঘোষণা দেওয়ায় তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা জানান, নবগঠিত উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. জহিরুল আলম কিরণ মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার লতা ইউনিয়নের গৌরিপুর বাজারে ব্যবসা করেন এবং সেখানেই শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাকে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি করার কোনো কারণ খুজে পাচ্ছেন না নেতাকর্মীরা। এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহিন হাওলাদার ঢাকায় চাকুরি করেন। তাকে নেতাকর্মীরা চেনেন কিনা এনিয়ে সন্দেহ করেছেন তারা। উপজেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র সহসভাপতি কালাম মোল্লা নামের কোনো লোকের অস্তিস্ত নেই শ্রমিক দলে। সেই নাম ব্যবহার করে কমিটি ঘোষণা দিয়েছেন জেলা শ্রমিকদল নেতারা।  পৌর শ্রমিক দলের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম  সিকদার যোগ্যস্থান না পাওয়ায় ইতিমধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা  দিয়েছেন।

নজরুল ইসলাম সিকদার জানান, বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। অনেক হামলা মামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু আমাকে পৌর শ্রমিক দলের সহসভাপতি করা হয়েছে। এই পদে থাকার চেয়ে না থাকাই উত্তম মনে করায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছি। ২/১দিনের মধ্যে জেলা কমিটির কাছে পৌছে দেব। তবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার আন্দোলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ যথাযথ ভাবে পালন করবো।

এব্যাপারে বরিশাল জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামের সাথে বার বার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।