মুলাদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারে মহাউৎসব

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী।।
বরিশালের মুলাদী উপজেলার নদ-নদীতে চলছে মা ইলিশ শিকারের মহাউৎসব। গত ১৪ অক্টোবর মা ইলিশ রক্ষার জন্য অভিযান শুরু হলেও প্রশাসন দায়সারাভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছেন বলে এলাকাসূত্রে জানাযায়। মুলাদী উপজেলায় জয়ন্তী, নয়াভাংগুলী ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে মীরগঞ্জ, মিয়ারচর, পাইতিখোলা, বানিমর্দন, নাজিরপুর, রামচর, সফিপুর, চরমালিয়া, মৃধার হাট এলাকায় রাত ৩টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ও বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শত শত জেলে মা ইলিশ শিকার করছে। এই নদীগুলোতে বেশ কিছু খাল থাকায় প্রশাসনের লোকজন টহল দিতে গেলেই জেলেরা খালের ভীতর ঢুকে পড়ে ও নারী পুরুষ উভয় জেলে নৌকা লুকানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অভিযানকারীদের ট্রলার চলে গেলেই আবার নেমে পড়ে মাছ স্বীকারে।

মুলাদী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তা ৬টি ট্রলার, ১টি স্পিটবোর্ড ও নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দুইটি পুলিশ বোর্ড নদীতে অভিযান পরিচালনার কথা রয়েছে, কিন্তু অভিযান পরিচালনা হচ্ছে গাফলতির মধ্যে দিয়ে। যখন মা ইলিশ শিকার করার সময় ঠিক তখনই অভিযান বন্ধ থাকায় জেলেরা লক্ষ লক্ষ মা ইলিশ শিকার করছে অবাধে। এ পর্যন্ত ১৩জন গ্রেফতার হয়েছে। তার মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৬জন, সাজা ৫জন ও জরিমানা হয়েছে ২ জনের।
এ ব্যাপারে মৎস্য কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান আমাদের জনবল খুবই কম তার মধ্যে আমার ১০১ থেকে ১০২ ডিগ্রী জ¦র নিয়েই অভিযান পরিচালনা করছি। উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর থেকে ৭/৮ জন কর্মকর্তা অভিযান পরিচালনার জন্য দেয়া হলে ভাগ করে দুই সময় অভিযান পরিচালনা করেন তারা। স্থানীয় সচেতন মহলের ধারনা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একটু সচেতন হয়ে কাজ করলেই অনেকটা কমে আসবে মা ইলিশ শিকার। এলাকাসূত্রে জানাযায়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হওয়ায় চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ ভোট হারানোর ভয়ে তেমন সহযোগিতা করছে না। এলাকার জন সাধারণ বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে সকাল ও সন্ধ্যায় অভিযান পরিচালনা না করলে কোন দিনই মা ইলিশ রক্ষা করা যাবেনা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভ্রা দাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান নির্ধারিত অভিযান পরিচালনা করার টিম থাকার পরেও ২/১ দিন পর পর আমি নিজে ও সহকারী কমিশনার ভূমি আলাদা আলাদা ভাবে অভিযান পরিচালনা করে থাকি।