মুলাদীতে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকা হাতিয়ে মদিনা গ্রুপের মাঠ কর্মকর্তা উধাও

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী (বরিশাল)।।
মুলাদীতে ব্যবসায়ীদের ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মদিনা গ্রুপের মাঠ কর্মকর্তা পালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মদিনা গ্রুপের মাঠ কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে। আরিফুল ইসলাম খুলনা জেলার খান জাহান আলী থানার গিলাতলা গ্রামের মোঃ রবিউল ইসলামের ছেলে। তিনি মদিনা গ্রুপের মুলাদী-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা (ফিল্ড অফিসার) হিসেবে কাজ করেছে।

আরিফুল ইসলাম দোকানে স্যানেটারি ও নলকূপে মালামাল দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় বন্দরের ব্যবসায়ী বাবুল শেখ ওরফে সুজন শেখ বাদী হয়ে মুলাদী থানায় মামলা করেছেন।

মামলা সূত্রে এবং ব্যবসায়ীরা জানান, আরিফুল ইসলাম প্রায় ৪ বছর ধরে মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় মদিনা গ্রপের কাজ করছে। তিনি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে দোকানে মাল পৌছে দিতেন। গত আগস্ট মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিলেও কোন মালামাল দেয়নি আরিফুল।

তিনি ব্যবসায়ী বাবুল শেখের ৩০ লাখ, হেমায়েত উদ্দীনের ২৪ লাখ, কাওসার মল্লিকের ৯ লাখ, রুবেল হোসেনের ২৪ লাখ, মাসুম হোসেনের ১ লাখ ৬৩ হাজার, নেছার ঢালীর ৬ লাখ ৯১ হাজার, রায়হান কবিরের ১৪ লাখ ৬০ হাজার, মিজানুর রহমানের ৮ লাখ ২০ হাজার এবং হেমায়েত হাওলাদারের ১১ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে। ব্যবসায়ীদের টাকার নিরাপত্তার বিষয়টি আশ্বস্ত করতে আরিফুল ইসলাম ৩০০টাকা স্টাম্পে চুক্তি এবং ব্যাংকের চেক দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ব্যবসায়ী বাবুল শেখ জানান, মাঠ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম গত ৩ আগস্ট মদিনা গ্রুপের নামে ৬ লাখ, ৩০ আগস্ট ৪ লাখ, ২৭ সেপ্টেম্বর ৭ লাখ ৪০ হাজার, জুলাই মাসে ৭ লাখ এবং গত ২৮ নভেম্বর ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে। মদিনা গ্রুপের পানির ট্যাংক, স্যানেটারি ও নলকূপের মালামাল দেওয়ার চুক্তিতে এই টাকা নেন। টাকার নিরাপত্তার জন্য আরিফুল মুলাদী ইসলামী ব্যাংকের চেক এবং স্টাম্পে লিখিত দিয়েছেন। কিন্তু মালামাল না দিয়ে তিনি পালিয়েছেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় মুলাদী থানায় মামলা করা হয়েছে এবং তাকে ধরিয়ে দিতে ১ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুবুর রহমান জানান, ব্যবসায়ীদের টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।