মুলাদীতে ভাবীর গোসলের নগ্ন ভিডিও ধারণ করে ভাবীকে ধর্ষণ

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী।।
বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামের হাবিব আকনের বড় পুত্র হানিফ আকনের স্ত্রীর গোসলের নগ্ন ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ভাবীকে দীর্ঘদিন যাবত ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত ১ ডিসেম্বর বড় ভাবী বাদী হয়ে দেবর সাইফুল আকনসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ জানান, প্রায় ৬ বছর আগে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী চাকরির কারণে বাড়িতে না থাকায় সাইফুল বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সাইফুল গোপনে তার গোসলের নগ্ন ভিডিওচিত্র ধারণ করে। পরবর্তীতে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে। বিষয়টি তার শ্বশুর-শাশুড়িকে জানালেও তারা এর প্রতিবাদ না করে চুপ থাকায় সাইফুল বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ওই গৃহবধূর ৪ বছরের সন্তান তার দেবরের ধর্ষণের ফলেই জন্ম হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
দেবর সাইফুলের অত্যাচারে ওই গৃহবধূ ৩ বছর আগে তার স্বামীর কর্মস্থলে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। ১৫-১৬ দিন আগে গৃহবধূ অসুস্থ স্বামীর কাছ থেকে বাড়ি এলে তার দেবর পুনরায় গোসলের নগ্ন ভিডিও দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতে চাইলে ভাবী ক্ষিপ্ত হয়ে মুলাদী থানায় দেবর সাইফুল, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে তার শাশুড়ি দাবি করেন, আমার বড় ছেলে প্রায় ৩ বছর ধরে অসুস্থ এবং শারীরিকভাবে অক্ষম। কিন্তু আমার ছোট ছেলে সাইফুল তার ভাবীকে ধর্ষণ করেছে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। অভিযোগকারীর স্বামী হানিফ বেপারী জানান তিনি অসুস্থ থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী এ অভিযোগ করছে। যে অভিযোগ করা হয়েছে সেটিও ভিত্তিহীন সন্তানটিও আমার।
নির্যাতিত গৃহবধুর ভাই রমজান বলেন, মান সম্মানের ভয়ে আমরা এতোদিন মুখ খুলেনি, আমার বোনের নির্যাতনের বিচার চাই। এলাকাবাসী জানান অভিযুক্ত সাইফুল এলাকায় আরও এরকম কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছে যাহা স্থানীয় ভাবে বিচার ব্যবস্থাও হয়েছে। তাই অভিযুক্ত সাইফুল আকনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে।
এ ব্যাপারে মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ ফয়েজ উদ্দীন মৃধা জানান, গৃহবধুর অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।