মুলাদীতে স্বামীর মৃত্যুর ২বছর ৬মাস পরে ছেলে সন্তান জন্ম, পিতৃহীন শিশু ছেলেটির মৃত্যু

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী (বরিশাল)।।
বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার মুলাদী সদর ইউনিয়নের পূর্বপাশে শেষ সিমানা ও কাজিরহাট থানার পশ্চিম পার্শ্বে শেষ সিমানা দক্ষিনে রত্তনপুর গ্রামে নান্নু দালালের স্ত্রী হাওয়ানুর ছেলে সন্তান জন্ম গ্রহণ করে রবিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টার সময় ও মৃত্যুবরণ করেন রাত ১০টার সময়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নান্নু দালাল ২বছর ৬মাসে আগে মারা যান। তখন তিনি ৩ ছেলে ১ মেয়ে রেখে যান। এরপর তার স্ত্রী কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে ছেলে মেয়ে ও নাতি নাতনি নিয়েই ২বছর ৬মাস পার করেন। বড় মেয়ে ফুকিকে বিবাহ দিলে সেখানে সংসার বেশী দিন টিকেনি। সে ঘরের একটি সন্তান তার লালন পালনের দায়িত্ব নিয়েছেন নানু হাওয়ানুর বেগম। তার বড় মেয়ে ফুকি ভারত চলে যান। তার দেয়া টাকায়ই সংসার চলতো।

প্রতিবেশীরা হঠাৎ তাকে গর্ভবতী দেখে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাদেরকে বকাঝকা করতেন ও বলতেন পেটে টিউমার হয়েছে। তাই কেউ তাকে বেশি কিছু বলতেন না। প্রতিবেশী লিটন মল্লিকের স্ত্রী রনি বেগম দেখতে পান রাস্তায় বসে হাওয়ানুর বেগমের ছেলেরা কান্না করছে, জিজ্ঞাস করলে বলে মা অসুস্থ। এ কথা শুনে রনি বেগম গিয়ে দেখেন ডেলিভারী ব্যাথা উঠেছে। ব্যাথার যন্ত্রণায় হাওয়ানুর বেগম বলেন আমাকে সিজারের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাও। তখন রনি বেগম বলেন তোমার অপারেশনের টাকা কে খরচ বহণ করবে। আর এ বাচ্চার বাবা কে? তার নাম বললে তার কাছ থেকে খরচ নিয়ে নিবো। কারো কথা না বলায় রনি বেগম চলে যায়।

রনি বেগম বাড়ির কাজ শেষ করে হাওয়ানুরের বাড়িতে আসলে দেখতে পান হাওয়ানুর তার নাতিকে নিয়ে শুয়ে আছেন। শিশুটিকে না দেখে জিজ্ঞেস করে শিশু কোথায়। হাওয়ানুর বলে শিশুটি মারা গেছে রেখে দিয়েছি। বৃষ্টি থেমে গেলেই মাটি দিয়ে আসবো। শিশুটিকে আবারও দেখতে চাইলে এরপর হাওয়ানুর বলেন ঐ তাকের উপর আছে।

রনি বেগম দেখে প্লাস্টিকের বলের মধ্যে ফুলসহ পানিতে ডুবিয়ে রেখেছে তাকের উপর। শিশু ছেলেটির সামান্য প্রাণ আছে দেখে তিনি দ্রুত পার্শ্ববর্তী বাজার খাশেরহাট বন্দর ডাক্তার মানিক লালের কাছে নিয়ে যায়। চিকিৎসক মানিক লাল দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুলাদী হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। মুলাদী হাসপাতালের চিকিৎসারত ডাক্তার বাবুর অবস্থা বেশী ভাল নয় দেখে চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত বরিশাল শেরেই বাংলা হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

সাথে সাথে ঐ শিশু ছেলেটির দায়িত্ব নিলেন প্রতিবেশী লিটন মল্লিকের স্ত্রী রনি বেগম। তিনি শিশু ছেলেটিকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শত চেষ্টা করেও শিশুকে বাচাতে পারেনি। ১৪ আগষ্ট রাতে শিশুটি মৃত্যু বরণ করেন। এ ঘটনাটি কাজিরহাট থানায় জানানো হলে থানা পুলিশ শিশুটির লাশ ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা হাসপাতালে নিয়ে যায় ও ময়না তদন্ত শেষে নিজ বাড়িতে দাফন করে দেয়।

জনমনে প্রশ্ন শিশু ছেলেটির পিতা কে? জন্মের সাথে সাথে শিশু ছেলেটিকে মা হাওয়ানুর বেগম হত্যা করার জন্য কেন চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন। কি অপরাধের জন্য শিশু ছেলেটি অল্প সময়ের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো। উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ আসল অপরাধিদের চিহ্নিত করে সঠিক বিচার করবেন এটাই এলাকাবাসীর দাবী। এলাকা সূত্রে যানাযায় বাদী না থাকায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের হয়নি।