মুলাদীতে সড়ক ভেঙ্গে খালে পরিণত, শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য মরণ ফাঁদ

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী (বরিশাল)।।
মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কুড়িরচর মিয়ারচর গ্রামের লোকজন ভাঙা সড়কে সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে। মিয়ারচর খোকন মাস্টারের বাড়ি থেকে কুড়িরচর পর্যন্ত মাটির সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় গ্রামের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার জনগণ।

নাজিরপুর ইউনিয়নের মিয়ারচর গ্রামটি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি অংশ। গ্রামটি আড়িয়াল খাঁ নদী দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় ইউনিয়ন সদর থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। এই গ্রামে প্রায় ৩ হাজার মানুষের বাস। ৫-৬ বছর আগে স্থানীয় সংরক্ষিত ইউপি সদস্য বিভিন্ন বরাদ্দ দিয়ে মিয়ারচর খোকন মাস্টারের বাড়ি থেকে কুড়িরচর পর্যন্ত মাটির রাস্তা তৈরি করেন। এই সড়ক দিয়ে ওই গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা মিয়ারচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাজিরপুর ইউনাইটেড কলেজে যাতায়াত করে। যখন তখন শিক্ষার্থীরা ওই সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সড়কটি সংস্কারের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি, বিলের পানি এবং খালের পানিতে সড়কটি ধীরে ধীরে ভেঙে যায়। কিছু কিছু জায়গায় দিয়ে সড়ক নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। বড় ভাঙন স্থানে মাটি ভরাট না হওয়ায় গ্রামবাসী সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন।

মিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা খোকন মাস্টার জানান, সড়কটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এলাকার বেশির ভাগ লোক কৃষি ও মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। এখানকার ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। মিয়ারচর থেকে কুড়িরচর পর্যন্ত সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় গ্রামের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে তাদের নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অভিভাবকেরা নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে গেলে ছেলে মেয়েরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না।

মিয়ারচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার বলেন, ভেঙে যাওয়ায় সড়ক দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টকর। শুকনো মৌসুমে কোনো মতে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় ভোগান্তির আর শেষ নেই। অনেক সময় বর্ষার পানি, কাঁদা আর মাটিতে একাকার হয়ে যাই। ভিজা জামা পড়েই স্কুল করতে হয়।

নাজিরপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শায়লা শারমিন মিম্মু বলেন, মিয়ারচর এলাকাটি নাজিরপুর ইউনিয়নের মূলখ- থেকে আড়িয়াল খাঁ নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেকটা অবহেলিত। এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে কয়েক বছর আগে কাঁচা সড়ক করার ব্যবস্থা করেছিলাম। এখন সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করলে সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে। নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বাদল খান বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।