মুলাদী পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম প্রচার-প্রচারণা

ভূঁইয়া কামাল,মুলাদী॥
বরিশালের মুলাদী পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম প্রচারণায় করোনা প্রার্দুভাবকে ছাপিয়ে সরগরম হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। প্রথম ধাপেই অনুষ্ঠিত হতে পারে ১ম শ্রেণির এই পৌরসভা নির্বাচন। তাই সভা সমাবেশ করে ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থণা করছেন সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ভোটারদের মাঝেও উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি নেই। পাড়া মহল্লায় চায়ের টেবিল শীতের উষ্ণ আমেজে আলোচনায় তুঙ্গে রয়েছে কে হবেন আগামী দিনের নগর পিতা ও কাউন্সিলর। বিএনপি কী নির্বাচনে অংশ নেবে? সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি কী প্রার্থী দেবে? নাকী ক্ষমতাসীন দলই দ্বিধা বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকবে? এই প্রশ্নই রয়েছে সবার মুখে মুখে। ইতোমধ্যে মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার লাগানোর মাধ্যমে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দোয়া কামনা করছেন।
মুলাদী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ভোটার রয়েছে ১৮ হাজার ৪১জন। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর ১ম নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত প্রার্থী আলহাজ্ব আঃ ছত্তার খান জয়লাভ করে। ২য় ও ৩য় নির্বাচনে মেয়র হয়েছেন পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা প্রশাসকের ছেলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শফিক উজ্জামান রুবেল। জনমুখে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ৪র্থ বারের মুলাদী পৌর নির্বাচনেও কী তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মাঠে থাকছেন নাকী আসবে কোনো নতুন মুখ? এই আলোচনায় রয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন হিরণ হাওলাদার, উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক দিদারুল আহসান খান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অহেদুজ্জামান আনোয়ার তালুকদার, কেন্দ্রিয় যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার, আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব ছালেহ উদ্দিন হাওলাদার। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলটির মাঝে কালো মেঘের ছায়া দেখা যাচ্ছে।
বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে প্রার্থী হতে পারেন বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ সত্তার খান, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান হুমায়ুন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আল মামুন, কেন্দ্রিয় বিএনপি নেতা মাহমুদ খান। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা জাপা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন-অর-রশিদ খান। তবে বর্তমান পৌর মেয়র শফিক উজ্জামান রুবেল প্রার্থী হলে জাতীয় পার্টির এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী না দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হতে পারেন উপজেলা ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম, পৌরসভা ইসলামি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সোলায়মান হোসেন ও বাংলাদেশ ওয়ার্কস পার্টির (মার্কসবাদী) উপজেলা সভাপতি সেলিম আহম্মেদ চৌকিদার। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়োন পাওয়ার জন্য সব দলের নেতা-কর্মীগণ দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শওকত আলী জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রথম ধাপে মুলাদী পৌরসভা নির্বাচন হতে পারে এবং সেই হিসেবেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।