‘ম্যাজিক মাশরুম’ সেবনে পশু-পাখির সঙ্গেও শুরু হয় গল্প!

অনলাইন ডেস্ক।।
এলএসডি ও ডিএমটির পর দেশে উদ্ধার হলো নতুন মাদক ‘ম্যাজিক মাশরুম’। জানা যায়, এই মাদক সেবনের পর মারাত্মক হ্যালোসিনেশন তৈরি হয়। এর ফলে সেবনকারী নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

মঙ্গলবার (০৬ জুলাই) দিনগত রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক ‘ম্যাজিক মাশরুম’ ও বিদেশি মদসহ দুই যুবককে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ম্যাজিক মাশরুমের পাঁচটি বার উদ্ধার করা হয়।আটক দু’জন হলেন- নাগিব হাসান অর্নব (২৫) ও তাইফুর রশিদ জাহিদ (২৩)।

বুধবার (০৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, নাগিব হাসান অর্নব এবং তাইফুর রশিদ জাহিদ বাংলাদেশে এসএসসি পর্যন্ত এক সঙ্গে পড়ালেখা করেছেন। অর্নব ২০১৪ সালে কানাডায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষে সেখানে কর্মরত আছেন।

তাইফুর রশিদ জাহিন নিয়মিত সাইকেডেলিক ড্রাগ সেবন ও বিক্রি করতেন। সাইকেডেলিক ড্রাগ সম্পর্কে তার আগ্রহ সৃষ্টি হলে কানাডায় অবস্থানরত অর্নবের মাধ্যমে ‘ম্যাজিক মাশরুমে’র একটি চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসেন এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, এই ড্রাগটি কেক ও চকলেট মিক্স অবস্থায় সেবন করা হয়। এছাড়াও পাউডার ও ক্যাপসুল হিসেবেও পাওয়া যায়। এই ড্রাগ ব্যবহারে সেবনকারীর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এমনকি কেউ কেউ ছাদ থেকে ঝাপিয়েও পড়তে পারে। কখনো উড়তে চেয়ে তাদের ছাদ থেকে ঝাপ দেওয়ার ইচ্ছা জাগে। এছাড়া সেবনকারী পশু ও পাখির সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। এমনকি গাছ থেকে অক্সিজেন আসছে কিনা তা গাছ জড়িয়ে ধরে অনুভব করার অভিনব কাণ্ড ঘটিয়ে থাকেন। ‘ম্যাজিক মাশরুম’ সেবন করে তাইফুর নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং অত্যন্ত বিভৎসভাবে নিজেই নিজের হাতের বিভিন্ন অংশ ধারালো বস্তু দিয়ে কেটে ফেলেন।

প্রত্যেকটি বারে থাকে ২৪টি করে স্লাইস থাকে উল্লেখ করে খন্দকার আল মঈন বলেন, একেকটি বার বাংলাদেশে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করছিল। যা কানাডায় দাম ৪০ কানাডিয়ান ডলার। বিট কয়েন পেপলসহ অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে মাদকের অর্থ লেনদেন হচ্ছে। কখনো কারবারি নিজেই চকলেটের আড়ালে নিয়ে আসছে এই ‘ম্যাজিক মাশরুম’। বিভিন্ন যাত্রীর লাগেজের মাধ্যমেও এই মাদক দেশে আমদানি করা হচ্ছে।