যে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৪১ বছর পর প্রথম সিজার

তরিকুল ইসলাম, পিরোজপুর।।
হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৪১ বছর পর পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালু হলো অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। মঙ্গলবার (০২ মে) দুপুরে হাসপাতালের ওটিতে উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের সাইফুল সওদাগরের স্ত্রী মীম বেগমকে সিজার করা হয়। জন্ম নেয় একটি কন্যাসন্তান। বর্তমানে মা ও নবজাতক উভয়েই সুস্থ আছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৮১ সালে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটির উদ্বোধন হয়। ২০১২ সালে ৫০ শয্যায় উন্নিত হয়ে বর্তমানে ২০২৩ সালে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ভবন উদ্ধোধন হলেও ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে। কখনো গাইনি ডাক্তার আছে তো অ্যানেস্থেসিয়া নেই। আবার অ্যানেস্থেসিয়া আছে তো গাইনি ডাক্তার নেই। আর এই দুইয়ের সমন্বয়ের অভাবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এতদিনে ওটি চালু হয়নি। পরিশেষে সব প্রতিবন্ধকতার অবসান ঘটিয়ে চালু হয়েছে ওটি।

স্থানীয়রা জানান, কোনও প্রসূতি মায়ের সিজারের প্রয়োজন হলে আগে বিভাগীয় শহর বরিশালে যাওয়া ছাড়া বিকল্প উপায় ছিল না। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ব্যবস্থা চালু করায় কোনও প্রকার ঝামেলা ছাড়াই সিজারিয়ান সেবা পাওয়া যাবে। তারা মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সিজার সেবায় সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা সাইফুল বলেন, প্রথমে কিছুটা ভয়ে ছিলাম কারণ এটি হাসপাতালে প্রথম সিজার। কিন্তু সুষ্ঠুভাবে সিজার সম্পন্ন হওয়ার পর খুবই উপকৃত হয়েছি। বাহিরে সিজার করলে বারো থেকে পঁনেরো হাজার টাকা খরচ হতো। আর এ কাজটির পুরো কৃতিত্বই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শর্মি রায়। মা ও সন্তান সুস্থ আছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শর্মি রায় বলেন, আমাদের এখানে ডাক্তারের সংকটের কারণে সিজার বন্ধ ছিল। সেটি আমরা চালু করতে সক্ষম হয়েছি। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৪১ বছর পর প্রথম সিজারে আমরা সফল হয়েছি। এ সফলতায় হাসপাতালের সকল ডাক্তার ও নার্সগণ সহযোগিতা করেছেন। ওটি শেষে প্রসূতিসহ নবজাতককে হাসপাতালের কেবিনে রাখা হয়েছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এখানেই প্রসূতি এবং নবজাতককে সেবা দেওয়া হবে।