রাসেলের আকুতি… ‘পুলিশ আমারে ছাইরা দ্যাও, আমি পাগল না’

অনলাইন ডেস্ক।।
ঘরের বারন্দায় পায়ে শিকল ও গলায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে ২২ বছরের যুবক রাসেল মীরকে। কেউ তার কাছে গেলেই তিনি বলে ওঠেন, ‘পুলিশ আমারে ছাইরা দ্যাও, আমি পাগল না’। এরপরই বাঁধনমুক্ত হওয়ার জন্য অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন তিনি। এসময় ধমক দিলেই আবার থেমে যান। এভাবে রাসেলের শেকলবন্দী জীবন ৮ বছর অতিক্রম করেছে। চিকিৎসার অভাবে রাসেলের শরীরের সঙ্গে শেকলবন্দী হয়ে আছে একটি পরিবারের স্বপ্নও।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের সূর্যমনি গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক ফারুক মীরের দুই ছেলের মধ্যে ছোট রাসেল মীর।

বাবা ফারুক মীর ও মা রুসিয়া বেগম বলেন, ‘মোগো পোলাডারে একটু চিকিৎসা করাইতে পারলে আবার আমাগেড় বুকের মানিক ভালো ভালো কতা কইতো।’

তারা জানান, রাসেল সুস্থসবল হয়ে জন্মগ্রহণ করে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছিলেন। ৮ বছর আগে হঠাৎ তিনি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। প্রথমদিকে স্থানীয় চিকিৎসক ও ফকিরদের দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। এতে তিনি সুস্থ হননি। পরে অর্থাভাবে আর চিকিৎসা করাতে পারেননি তার। এ কারণে ৮ বছর যাবত ঘরের খুঁটির সঙ্গে পায়ে শেকল বেঁধে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন বেঁধে রাখায় তার পায়ে ও গলায় শেকলের দাগ পড়ে গেছে।

স্থানীয় চৌকিদার জালাল আহম্মেদ বলেন, রাসেল খুবই শান্ত ও কর্মঠ ছেলে ছিল। কেন কীভাবে তার এমন পরিণতি হলো তা কেউ জানে না। তার পরিবারের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। যে কারণে রাসেলের চিকিৎসাও তারা করাতে পারেনি। সরকারি বা বেসরকারি যে কোন সংস্থা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলে সে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

জানা গেছে, রাসেলের বাবা ফারুক মীর একসময় উপজেলার চরকাজলে অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করতেন। অভাবের তাড়নায় নিজের জমিজমা বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন সূর্যমনি গ্রামে ফিরে চাচাত ভাইয়ের জমিতে কুড়েঘর তুলে বাস করছেন। গ্রামে বিভিন্ন বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চলে তার। ফারুক মীরের স্বপ্ন ছিল তার দুই ছেলে বড় হয়ে কাজে নেমে সংসারের হাল ধরবে। রাসেলের অস্বাভাবিক জীবন তার সেই স্বপ্নকে শেষ করে দিয়েছে।

সূর্যমনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, শুনেছি ওই গ্রামের একটা ছেলে পাগল হয়ে গেছে। পরিবারের কেউ এ বিষয়ে জানায়নি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন মনিরুজ্জামান বলেন, খোঁজ নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে রাসেলের জন্য কী করা যায় দেখব। সূত্র-সমকাল