লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: বরগুনা গণকবরে ২৭ লাশ দাফন

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
ঢাকা- বরগুনা নৌরুটের চলাচলগামী লঞ্চ এম ভি অভিযান-১০ প্রায় পাঁচ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসে ঝালকাঠির সুগান্ধা নদীতে রাত ৩ টার দিকে ইঞ্জিনরুম থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দগ্ধে পুড়ে এ পর্যন্ত ৪৫ জন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধী আছেন শতাধিক। এছাড়াও এ লঞ্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ আছে শতাধিক,যাদের সন্ধান মেলেনি এখনও।

বরগুনাগামী ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের গাবখান চ্যানেলের কাছে সুগন্ধা নদীর মাঝখানে এ ভয়াবহ আগুনের দুর্ঘটনার কবলে পড়ে লঞ্চটি।

এ নিহতদের মধ্যে থেকে ৩৩ টি লাশ ঝালকাঠি থেকে বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান গ্রহন করেন। ওই ৩৩ টি লাশের ইতোমধ্যে ৬ টি লাশ শনাক্ত করে আত্মীয়ের কাছে হস্তান্তর করেন। শুক্রবার রাত সোয়া ১১ টায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছায় এ ৩৩ মরদেহ। প্রতিটি মরদেহের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বরগুনা সদর থানায়।

নিহতদের মধ্যে সদরের ৯ নং এম বালিয়াতলীর বশির আহমেদ স্বপনের স্ত্রী জাহানারা (৪৫), ২নং গৌরিচন্না ইউনিয়নের খাজুরতলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের দুই কন্যা লামিয়া আক্তার (৪), সামিয়া আক্তার (৪)। তবে রফিকুল এর স্ত্রী শিমু আক্তার নিখোঁজ রয়েছেন। পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী গ্রামের মোস্তফার কন্যা সাহিদা (১৫), একই উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামের নাসরুল্লাহর কন্যা তাবাসসুম (৩), ৮ নং বরগুনা সদর ইউনিয়নের ঢালুয়া গ্রামের বেল্লালের স্ত্রী মনোরা (৫০)।

বাকি ২৫ টি কফিনে ২৭ টি লাশের দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়। যার মধ্যে ২ টি কফিনে মায়ের সাথে সন্তানকে কবরস্থ করা হয়।

তবে ৩৩ টি লাশ ছাড়াও ঝালকাঠি থেকে স্বজনরা ৪ টি ও বরগুনা থেকে রাতে তিনটি লাশ শনাক্ত করে ইতোমধ্যে নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে-বামনা, বেতাগী ও পাথরঘাটার বাসিন্দা। অগ্নিদগ্ধে মৃত্যুবরণকারী প্রত্যেককে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার সকালে ৩০ টি লাশের বেলা ১১ টায় সার্কিট হাউজ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে নামাযে জানাজা শেষে ১ টি ও আগে ২ টি লাশ নিয়েছেন স্বজনরা। পরে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় পোটকাখালী গণ কবর তৈরি করে শনাক্তহীন ২৭ লাশ শেষ গোসল ছাড়াই দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

জানাজা শেষে পোটকাখালী জাতীয় কবরস্থানে তিন সারিতে বিশেষ মর্যাদায় এদের দাফন করা হয়। সার্কিট হাউজ থেকে পোটকাখালী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো বরগুনার মানুষ সমবেদনা জানান।

এই প্রথমবারের মতো গণ জানাজার ইমামতি করেন বরগুনা কালেক্টর (ডিসি কোর্ট) জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মুফতি জাহিদুল ইসলাম।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। শনাক্ত ব্যতীত যে লাশগুলো দাফন করা হয়েছে, প্রতিটি লাশের ডিএনএ রাখা হয়। পরবর্তীতে যোগাযোগ কৃত আত্মীয়-স্বজনের ডিএনএ’র সাথে মৃত ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লাশের কবর চিহ্নিত করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান ।