শিশুদের খিঁচুনি রোগ

রূপালী বার্তা।।
শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত দুই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। একটি খিঁচুনি হয় জ্বরসহ। আরেকটি জ্বর ছাড়াও হতে পারে। কনভালশনের বাংলা হলো খিঁচুনি। এটি দেখতে বেশ ভয়ংকর। যখন এই খিঁচুনিটা ওঠে একে আমরা জেনারেলাইজড কনভালশন বলি।

পুরো শরীর নিয়ে যখন খিঁচুনি উঠে যায়, তখন চোখ উল্টে যায়, মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়, দাঁত-মুখ খিঁচতে থাকে, হাত-পা ঝাঁকুনি হতে থাকে, শক্ত হয়ে থাকে প্রথমে, পরে ঝাঁকুনি, খিঁচুনি হতে থাকে, এটি দেখলে মা-বাবারা অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তখন চিকিৎসকের কাছে যান, হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াটাই উচিত। কী কারণে খিঁচুনি হচ্ছে, সেটি বের করা অত্যন্ত দরকার।

অনেক শিশুর ছয় মাস থেকে ছয় বছর পর্যন্ত ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ্বর হলে খিঁচুনি হওয়ার একটি আশঙ্কা থাকে। কিছু কিছু শিশুর প্রবণতাই থাকে জ্বর হলে খিঁচুনি হওয়ার। জ্বরটা যখন বাড়তে থাকে, তখনই সাধারণত এই খিঁচুনিটা শুরু হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় দেড় বছরের আশপাশে হয়।

খিঁচুনির কারণ: আসলে এর কারণ জানা যায়নি। যাদের একটি প্রবণতা থাকে খিঁচুনি হওয়ার। তাদের মা-বাবার হয়তো এ রকম ছোটবেলায় খিঁচুনি হয়েছে, এ রকম হতে পারে। অথবা অন্য ভাইবোনদের হয়েছে, এ রকমও হতে পারে।

চিকিৎসা: যাদের জরের সাথে খিঁচুনী রোগের সমস্যা আছে তাদের কে বাসায় সব সময় কিছু ঔষধ রেখে দিতে হবে। খিচুনী হলে সাথে সাথে ইজিয়াম সাপোজিটরী মলদ্বারে দিতে হবে। প্যারাসিটামল ঔষধ খাইয়ে তার পরে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

ডা: কে.এম. জাহিদুল ইসলাম
এমবিবিএস(ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য)
এমএস (অর্থোপেডিক সার্জারী) অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) ঢাকা।