সন্ধ্যা নদীর কবলে কাউখালীর খাদ্য গুদামের গাইডওয়াল

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী (পিরোজপুর)।।
পিরোজপুরের কাউখালীর সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের মুখে কাউখালী খাদ্য গুদাম। নদী তীরবর্তী খাদ্য গুদামের বাউন্ডারী ওয়াল যা ইতিমধ্যেই নদীতে বিলীন হয়েছে। সন্ধ্যায় গ্রাস করে নিয়েছে কাউখালীর একমাত্র খাদ্য গুদামের স্থাপনা। যার ফলে খাদ্যগুদামগুলো সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। যে কোন মূহুর্তে সন্ধ্যা নদীর গর্ভে চলে যেতে পারে খাদ্য গুদামগুলোর মূল অংশ। উপজেলায় বৃটিশ আমলে নির্মিত ৫টি খাদ্য গুদামের দুটি খাদ্য গুদাম সন্ধ্যা নদী থেকে মাত্র ১০/১২ ফুট দূরে রয়েছে। বাকী তিনটিও নদী ভাঙনের কাছাকাছি অবস্থান করছে। সামনের জেটি ও রাস্তা ইতোমধ্যে সন্ধ্যার গর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া বাউন্ডারী ওয়াল অধিকাংশই ভেঙে গেছে। জরাজীর্ণ পুরাতন খাদ্যগুদামগুলো দিন দিন ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। যার ফলে আতঙ্কে থাকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঝুঁকির মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছে প্রহরীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ষাটের দশকে সাড়ে তিন একর ভুমির উপর গোড়া পত্তন হয় কাউখালী খাদ্য গুদামের। ওইসময়ে ৪ টি গুদাম ও ষ্টাফ কোয়ার্টার নির্মান করা হয়। স্বাধীনতার পর আরো ১ টি গুদাম নির্মান করা হয়। নির্মান করা হয় মসজিদ, নিরাপত্তা বেষ্টনী ও জেটি। সন্ধ্যা নদীর ভাঙন শুরু হলে কে একে বিভিন্ন স্থান ভেঙে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে আঘাত আসে কাউখালী ষ্টীমার ঘাট, লঞ্চ ঘাট, ফেরীঘাটত, আমরাজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা, আশোয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফেরী ঘাটসহ খাদ্য গুদাম এলাকায়। খাদ্য গুদামের সামনের দীর্ঘ দেয়ালের বেশিরভাগ অংশ সহ জেটি ও সম্মুখের রাস্তা ইতো মধ্যে বিলীন হয়েছে। এছাড়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও সিএলএসডি), ষ্টাফ কোয়ার্টার, লেবার শেড দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য সংস্কারের মাধ্যমে অফিস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অফিসার, প্রহরীরাদের বাসস্থানের অভাবে এরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঝুঁকি নিয়েই দায়িত্ব পালন করছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানান বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে তারা গত ১৪ জানুয়ারী সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং চলতি বছরেই ভাঙন রোধ ও অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানান।