সুনামগঞ্জে ফের বন্যা, বাড়ছে সুরমা কুশিয়ারাসহ সবকটি নদী-নদীর পানি

শামীম আহমদ তালুকদার, সুনামগঞ্জ।।
সুনামগঞ্জে একটি বন্যার রেষ কাটতে না কাটতেই আবাবো গত চারদিন ধরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বাড়ছে সুরমা কুশিয়ারাসহ সবকটি নদী নদীর পানি। গত ২৪ ঘন্টার ব্যবদানে জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি অনেকটা ফের বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (০৩ জুলাই) সকাল ৯টায় শহরের ষোলঘর পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বাড়ছে র্দূভোগ। বন্যায় পানিবন্দী ছিলেন জেলার ৯ লাখ মানুষ। ইতিমধ্যে জেলা সদরসহ ১২টি উপজেলায় সরকারের তরফ থেকে বন্যার্তদের জন্য ১৩ শত ৪৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ, জি আর ক্যাশ হিসেবে ২৬ লাখ ১০ হাজার টাকা, শিশু খাদ্য বাবত ১০ লাখ টাকা, গোখাদ্য বাবত ১০ লাখ টাকা, শুকনো খাবার বাবত ৮ হাজার ১৮৩ প্যাকেট বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৯৪৮ জন বন্যার্ত মানুষ রয়েছেন।

জানা যায়, টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পূনরায় বন্যায় সুনামগঞ্জের সবকটি নদ নদীর বাড়ছে। এদিকে সাম্প্রতিক বন্যায় জেলার আউশ ধান ১৭০০ শত হেক্টর পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ক্ষতি হয়েছে ১১ কোটি টাকা এবং ৮ হাজার পুকুরের ৪ হাজার মেট্রিক টন মাছ হাওরের পানিতে ভেসে যাওয়ায় মৎস্য চাষীদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৭০ কোটি টাকার উপরে। অন্যদিকে বন্যায় আক্রান্ত নিম্নআয়ের মানুষজনের কাচা ঘরবাড়ির ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় মোট ১৫০ কিলোমিটার গ্রামীন পাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যার ক্ষতির পরিমান হবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।অপরদিকে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘন্টায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সামপ্রতিক বন্যায় বন্যার্ত মানুষজন আশ্রয় কেন্দ্রগুলো থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে গেলেও তাদেরকে খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন না অভিযোগ উঠেছে। তাদের কাচাঘরবাড়ি কিভাবে মেরামত করবেন তা নিয়ে যেন তাদের চিন্তার শেষ নেই।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, আগামী তিন চারদিন বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় স্বপ্ল মেয়াদি আরো একটি বন্যার আশংঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানান, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার ফলে বন্যার্তরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। কিন্ত আবারো বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় আরো একটি বন্যার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। সবাইকে নিজ নিজ বসতঘরের মালামালও আসবাবপত্র সামলিয়ে রাখতে অনুরোধ করেছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, যারা এখনও আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন তাদের খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে ও পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে।