সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুতে বাতি আছে, আলো নেই

এইচএম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু উপজেলার বালিয়াতলী পয়েন্টে আন্ধারমানিক নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু। সেতু ল্যাম্পপোস্ট ঠিকই আছে, তবে বাতি জ্বলে না। সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে সেতুটি। সেতুর সব বাতি দীর্ঘদিন ধরে জ্বলে না। সন্ধ্যার পর সেতুতে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। সেতুতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কখনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, কখনো পথচারীরা ছিনতাইয়ের শিকারের উপক্রম হচ্ছে। মাদকসেবীরা সেতুতে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ আছে। প্রথম বারের মতো পুরো সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু আলোকিত, বাতি জ্বলল সব কটি ল্যাম্পপোস্টে। স্বপ্নের সৈয়দ নজরুল সেতুর দুই প্রান্তে ঝলমল করে জ্বলে উঠল আলো। সব কয়টি ল্যাম্পপোস্টে একসঙ্গে বাতি জ্বালানো হয়। পুরো সৈয়দ নজরুল সেতু আলোকিত হলো, বাতি জ্বলল সব কটি ল্যাম্পপোস্টে। সেতু খুলে দেওয়ার আলোর ঝলকানিতে উচ্ছ্বসিত সাগরপাড়ের এ জনপথের মানুষ।

সেতুর ঝলমল আলো দেখতে দুই প্রান্তেই লোকজন জড়ো হন। এমন মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখতে অনেকে ছবি তোলেন, অনেকে ভিডিও করেন। অনেকে প্রিয়জন ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে আলোকিত সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু ফেসবুক লাইভে দেখান। কিন্তু শুরু কয়েক মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকোশলী (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ সব কয়টি ল্যাম্পপোস্টে একসঙ্গে বাতি জ্বালানো বন্ধ করে দেয়। ওই সেতু দিয়ে বালিয়াতলী, লালুয়া, মিঠাগঞ্জ, ধুলাসার ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ উপজেলা শহরের সঙ্গে। বিকল্প পথ হিসাবে এ সেতুটি পার হয়ে পর্যটন পল্লী গঙ্গামতি ঘুরে কুয়াকাটা যাওয়ার সুযোগ মিলে পর্যটকসহ দর্শনার্থীদের।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি) অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় এ সেতুটি নির্মিত হয়েছে। ১৩টি স্প্যানের ওপর ফুটপাথসহ নয় দশমিক ৮ মিটার প্রস্থ। ৬৬৮ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুটির দুই পাড়ে রয়েছে পাঁচশ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক। ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী এ সেতুর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর একটি জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ল্যাম্পপোস্টের খুঁটির গোড়ার হেলে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ল্যাম্পপোস্টের বাতিগুলো হয় ঝুলে আছে, নয়তো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যা নামলে ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেতু এলাকা ফাঁকা থাকায় এবং সড়কের বাতি না জ্বলায় সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারীরা যে কোন সময় ছিনতাইয়ের কবলে পড়তে পারে। এ ছাড়া সেতুতে বাতি না থাকায় মাঝে মধ্যে যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সেতু বাতি না জ্বললেও কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, সন্ধ্যার পর এই সেতুগুলো মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়। এই মাদকসেবীরাই অনেক সময় বিকাল ও সন্ধ্যায় পরে ওই সেতুতে আড্ডা বসে। রাতের অন্ধকারের সুযোগে প্রায়ই যাত্রীরা ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে সর্বস্ব খোয়ান।

আটো চালক রহিম বলেন, যখন প্রথম দিকে সেতুতে বাতি জ্বল ছিল তখন আমাদের গাড়ি চালাতে কোন ভয় ছিল না। দিনের মতো পরিস্কার ছিল। কোন লোক গাড়ির সামনে আসলে তা দেখা যেতো। কিন্তু বাতি না জ্বলার কারনে যে কোন সময় আমরা গাড়ীর চালক গাড়ী নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, আবার কখনো পথচারীরা ছিনতাইয়ের শিকারের উপক্রম হতে পারি। অনেক দিন ধরে সেতু বাতি না জ্বললেও কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।

কলাপাড়া এলজিইডি উপজেলা উপ প্রকৌশলী মো.আবুল হোসেন বলেন, সেতুতে বাতি জ্বললে মাসে কারেন্ট বিল অনেক টাকা আসে। তা আমাদের এলজিইডির পক্ষে এতো খরচ বহন করা সম্ভব নয়। এজন্য সেতু চালু করার পর কয়েক মাস চলার পর এলজিইডির কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।