স্ট্যাটাস

স্ট্যাটাস
-বিপ্লব গোস্বামী

প্রিয়া আর রাজ দুজন দুজনকে পাগলের মতো ভালোবাসে।তারা দুজন এক সঙ্গে জীবন কাটাতে চায়।বিয়ে করে ঘর বাঁধতে চায় দুজন। দুজনের চোখে রঙিন স্বপ্ন। তাদের প্রেমের সাত বছর হয়েগেছে। সম্পর্ক মন থেকে শরীর অবধি পৌঁছেগেছে। এখন শুধু শুভ দিনে শুভ পরিনয়টা হয়েগেলেই হয়। সাত বছর আগেই দুই পরিবারের অভিভাবকরা দুজনের সম্পর্কে মেনে নিয়েছেন। ওরা যখন প্রথম সম্পর্ক শুরু করে তখন দুজন দুজনকে দুজনের পরিবারে নিয়ে গিয়ে দেখা করিয়েছে তাদের মা বাবার সঙ্গে। সহজেই মেনে নিয়েছিল এই সম্পর্কে কিন্তু এখন যখন সম্পর্কটার পূর্ণতা পাওয়ার সময় এসেছে তখন বাধা হয়ে দাঁড়াল প্রিয়ার পরিবার।

প্রিয়ার পরিবারের লোকেরা এখন কিছুতেই মেনে নিতে রাজি নয় রাজকে। প্রিয়া তার বাড়িতে তাদের বিয়ের দিন ক্ষণ ঠিক করার কথা জানাতেই প্রিয়ার ভাইয়ের আপত্তি এল সবার আগে। প্রিয়ার ভাই কিছুতেই মেনে নিতে রাজি নয় এই সম্পর্কে। শুধু প্রিয়ার ভাই নয় পরিবারের সবাই রাজকে মেনে নিতে রাজি নয়। তাদের এহেন কথা শুনে অবাক হয়ে যায় প্রিয়া।

প্রিয়া প্রথমে ভেবেছিল সবাই হয়তো তাকে বোকা বানাতে চাইছে। হয়তো সবাই মজা করছে তাকে নিয়ে। হয়তো একটু পরেই দিন ক্ষণ ঠিক করে তাকে সারপ্রাইজ দিবে সবাই।কিন্তু মুহূর্তে প্রিয়ার ভুল ভাঙ্গল।প্রিয়া দেখল শুধু তার ভাই নয় বাবা মা সবাই ভাইকে সায় দিচ্ছেন। প্রিয়া তার ভাইকে বলতে লাগল দাদা তুমি আমাকে নিয়ে মজা করছ না তো। প্রিয়ার ভাই প্রিয়াকে বুঝাতে লাগল না বোন, আমি সিরিয়াসলি বলছি। তুই বুঝার চেষ্টা কর। প্রিয়া রাগান্বিত হয়ে বলতে লাগল দাদা যখন আমি রাজকে নিয়ে বাড়িতে এসেছিল তখন কেন তোই আপত্তি করিসনি? তোর যদি রাজকে ফছন্দ নয় তবে তখন কেন সম্পর্কটা মেনে নিয়েছিলে? আর তখন যদি রাজ তোর পছন্দের ছিল তবে এখন হঠাৎ করে কিভাবে সে অপছন্দের হয়ে গেল?

প্রিয়ার ভাই প্রিয়াকে বুঝাতে লাগল, দেখ বোন তুই ভুল বুঝছিস। বুঝার চেষ্টা কর, আগে যখন রাজের সঙ্গে তোর সম্পর্ক শুরু হয় তখন তোই কলেজের ছাত্রী ছিলে। আর এখন তোই একজন প্রতিষ্ঠিত ডক্টর। তোর কত নাম ডাক, কত মর্যাদা। কোথায় তুই ডাক্তার আর কোথায় রাজ? রাজ সামাণ‍্য এক পাইমারি স্কুলের সেকেন্ড টিচার মাত্র। ভেবে দেখ বোন, এখনো সময় আছে একটু ভাব। ভেবে দেখ তোর স্ট্যাটাস(status) আর ওর স্ট্যাটাস(status)। তুইতো প্রেমে অন্ধ হয়ে গেছিস তাই ভালো মন্দ কিছুই বুঝতে পারছিস না।

প্রিয়া ভাইয়ের কথা শুনে অবাক হয়ে যায়। সে তার বাবা-মায়ের কাছে জানতে চায়- মা বাবা তোমরা কিছু বলছ না কেন? প্রিয়া বাবা মার কাছ থেকে কোন জবাব না পেয়ে বলতে লাগল- ও বুঝে গেছি তা শুধু দাদার কথা নয় তাতে তোমাদের সন্মতি আছে। বাহ বেশ, বেশ তো। আচ্ছা মা বাবা তোমরা এতটা স্বার্থপর হয়ে গেলে এত নীচে নেমেগেলে। তোমরা কি করে ভুলে গেলে রাজের ত‍্যাগের কথা। আজ যদি আমি ডাক্টার হয়ে থাকি তা শুধু করণের জন‍্য। তোমরা ভুলে যেতে পারো কিন্তু আমি কিছুতেই ভুলব না ওসব কথা। যে দিন টাকার অভাবে আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেয়েছিল তখন ও ভগবানের মতো কাছে এসে দাঁড়িয়েছিল। ওর কারণের আজ আমার ডাক্তার হয়ে ওঠা। কি করে ভুলতে পারলে, আমার এমবিবিএস এডমিশনের ফি’য়ের সম্পূর্ণ টাকাটা কিন্তু রাজ দিয়েছিল। মা বাবা তোমরা স্বার্থপর হতে পারো কিন্তু আমি কিছুতেই ওকে ভুলতে পারব না। আমি ওর কাছে চীর ঋণী। জীবনেও ওর ঋণ শোধ করতে পারব না। তোমরা ওকে ঠকাতে পারো কিন্তু আমি পারব না।আর কিছু যদি না পারি আর ছায়া সঙ্গী হয়ে যদি ওর সেবা যত্ন করতে পারি তবে হয়তো একটু হলেও ওর ঋণ শোধ হতে পারে।

প্রিয়ার কথা শুনে প্রিয়ার মা বাবার মাথা নিচু হয়ে যায়। লজ্জায় চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারছিলেন না। প্রিয়ার বাবা বললেন সরি মা ,ওর কথায় কিছু মনে করিস না।ওকে ক্ষমা করে দিস।আমি শিঘ্রীই তোদের বিয়ের ব‍্যবস্থা করছি।তোই কিন্তু রাজকে ওসব কিছু বলিস না।