স্বরূপকাঠিতে ভূমিহীনের বন্দবস্তের জমি প্রভাবশালীদের দখলে

স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি।।
স্বরূপকাঠিতে ভূমিহীন পরিবারের বন্দোবস্ত পাওয়া জমি দখল করে রেখেছে প্রভাবশালীরা। প্রভাবশালী ওইসব দখলদারদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা। সরকারী খাস জমি বন্দোবস্ত পেয়ে মিউটিশন, বিএস রেকর্ডে করিয়ে, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা সত্যেও জমির ধারে কাছেও যেতে পারছেনা ভূমিহীনরা। গৃহহীন পরিবারের সদস্যরা শেওলার মত ভেসে বেড়াচ্ছে। সুরাহা পাওয়ার জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি, মেম্বার, চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্ট জনের কাছে ঘুরেও কোন সুরাহা পাচ্ছে না। সরকারী দফতরে ঘুরেও তারা কোন সহায়তা পাচ্ছে না। এমন সব অভিযোগ করেছেন ভূমিহীন পরিবারের সদস্য কবির। অপরদিকে ডিক্রি মূলে জমি পাওয়ার দাবী করে ওইসব ভূমি ওই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে আলীম ও তার লোকজন দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন।

ভূমিহীন পরিবারের সদস্য কবির জানান, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়নের জেএল ৩৪ পশ্চিম সোহাগদল মৌজার, ১ নম্বর খতিয়ানের ৩৫৫৫ নং দাগের ৫৭ শতক জমি ১৮৩(এস) ৮৭-৮৮ নং বন্দোবস্ত কেসের বলে ০১/১০/১৯৯০ তারিখে সরকারের উপজেলা ভূমি অফিস তাদের পিতা আব্দুর রহিম ও মাতা মরিয়ম বিবির নামে বন্দোবস্ত দেয়। সে অনুযায়ী রেকর্ড সংশোধন করে ৯০৩ নং নতুন খতিয়ান সৃজন করে রেকর্ড করে দেন। ওই ভূমি থেকে রাস্তা নির্মান করার কারনে ৩ শতক সম্পত্তি বাদে ৫৪ শতক জমি বর্তমান বিএস জরিপে বিএস ৩৪৫৫ নং খতিয়ানে ৭৯১,৮৭০ ও ৮৭২ নং দাগে রেকর্ড ভূক্ত হয়। এবং যথারিতি খাজনা পরিশোধ করেন। দরিদ্র মানুষ বিধায় কাজের তাগিদে অন্যত্র যায়। ২০০৪ সালে তাহার পিতা আব্দুর রহিম মারা যান। এর কিছু দিন পর ওই ভূমিতে ঘর তুলতে যাই। এসময় সোহাগদল গ্রামের (০) পূত্র আলীম ও তার সহযোগীরা কাজে বাধা দেয়। তারা ভূমিহীনদের মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। সে থেকে দখলবাজদের কারনে সেখানে তারা যেতে পারছে না। দখল না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরা বরে আবেদন করেন। কর্মকর্তার পরামর্শে পুনরায় ওই জমিতে ঘর তুলতে গিয়ে দখলদারদের বাধার সম্মুখীন হন। দখলদাররা তাদেরকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া ভূমিহীন আব্দুর রহিম পরিবারের বিভিন্ন জনের নামে হয়রানী মুলক মিথ্য মামলা দিয়ে হয়রানী করে চলছে।

এ বিষয়ে আলিমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, তারা ডিক্রি বলে ওই জমি ভোগদখল করেন। ডিক্রির কাগজ দেখতে চাইলে বার বার আজ কাল করে সময় নেয়। সব শেষে শহীদুল ইসলাম নামে এক আত্মিয়কে মোবাইল ফোনে ধরিয়ে দেন। ফোনে ওই আত্মিয় বলেন, কাগজ পিরোজপুর রয়েছে। আগামী রোববার দেখাব। এরপর পনের দিন পরে ওই শহীদুল ইসলামের ফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন,আপনারা সাংবাদিক আপনাদের কাগজ দেখার অধিকার কি ? অভিযোগ কারীর বক্তব্য যাচাই করার জন্য দেখতে চাই। বললে আপনারা বিচারক না। আপনাদের কাগজ দেখাব না বলে ফোন কেটে দেন।

সোহাগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ভুক্তভোগীরা আমার কাছে এসেছিল। যেহেতু ভূমির বিষয় সে কারনে ভূমি অফিসে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোশারেফ হোসেনের মতামত জানার জন্য তার অফিসে গেলে অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস পাল উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী অফিসার বলেন, ভূক্তভোগীরা আমাদের কাছে এসেছিলেন। যেহেতু ওই জমির মালিক ভূমিহী আব্দুর রহিম গংরা সেহেতু আমাদের সরাসরি কিছু করার নেই। এ বিষয়ে তারা আইনের আশ্রয় নিবে। আদালত বা জেলা প্রশাসক মহোদেয় কোন নির্দেশনা দিলে আমরা অগ্রসর হতে পারি।