স্বরূপকাঠিতে ৪ টি খেয়াঘাট: লাখ লাখ টাকা আদায় হলেও খাতা পত্রে তহবীল শূন্য

স্বরূপকাঠি(পিরোজপুর) প্রতিনিধি।।
পিরোজপুরে স্বরূপকাঠির বলদিয়া ইউনিয়নে ৫ টি হাট বাজার ও ৬ টি খেয়াঘাট ২ টি কুদঘাট থাকলেও কোন রাজস্ব পায়না ইউনিয়ন পরিষদ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ খেয়াঘাট গুলোর ইজারা দিয়ে চেয়ারম্যান সাহেব লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন। শুধু জিলবাড়ী খেয়া ঘাটের ডাক দিয়ে চলতি বছর ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। চেয়ারম্যান ৩ টি ঘাট থেকে ৫২ হাজার এবং একটি ঘাট থেকে প্রতিদিন ২০০ বা ২৫০ টাকা করে পান বলে স্বীকার করলেও কোন টাকা পয়সা ক্যাশ বইতে জমা করা হয়নি। এমনকি কোন রেজুলেশনও নেই। ২০০১ সাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদের খাতা পত্র ঘেটে জানা যায় ২০১৯ সালে ২০ হাজার টাকা জমা আছে। এছাড়া আর কোন টাকা পয়সা জমা নেই। পরিষদের সচিব আতিকুল ইসলাম দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সহ বেশ ক’দিন বলদিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন হাট বাজার ও খেয়া ঘাট ঘুওে জানা যায় সব চেয়ে বেশি টাকার ডাক হয় জিলবাড়ী (জিরবাড়ী) খেয়া ঘাটে। ওই ঘাটের এবছর যোগা যোগীর মাধ্যমে ডাক হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ইজারা নেন কবির হোসেন ও মিঠুমিয়া। মিঠুমিয়া সাংবাদিকদের স্বাক্ষাত দিতে রাজি হননি। তিনি বার বারই বলেন চেয়ারম্যান সাহেব বলবেন। তার অংশীদার কবির হোসেন বলেন, তার ভাগের অর্ধেক ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চেয়ারম্যান সাহেবকে দিয়েছেন।ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মাঝিরা গোপনে গোপনে গিয়া ডাক আনে আমাকে জানায়না। কত দিয়ে ডাক দিয়েছেন তা চেয়ারম্যান সাহেব ভাল জানেন।

চৌদ্দ রশি খেয়াঘাটের বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই ঘাট থেকে লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এলাকার মেম্বার সামসুল হক জানান এ পাড়ের মসজিদে ১৫ হাজার ও পশ্চিম পারের মসজিদে ১০ হাজার টাকা এবং এলাকার আওয়ামীলীগের অফিস ভাড়া বাবদ বছরে ৭/৮ হাজার টাকা দেন। বাকী ৪০/৪৫ হাজার টাকা যা হয়তা চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে আছে এ পর্যন্ত আমি জানি। মেম্বার মিজানুর রহমান ও সামসুল হক আরো বলেন, আমাদের সম্মানী বাবদ চেয়ারম্যান সাহেব সব মেম্বারদের ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন এবং কাগজ পত্রে সই স্বাক্ষর ও নিয়েছেন। এ ছাড়া কাটা পিটা নিয়া ও লেবুবাড়ী দুটি খেয়া ঘাট এলাকাবাসী ধান ও বার্ষিক হিসেবে টাকা দিয়ে চালায়। কাটা পিটানিয়ার ও কাটা খালী খালরমুখে টোল (কুদ) আদায় করা হয়। ওই ইউনিয়নের সব গুলো হাটের ইজারা ভূমি অফিসের তত্বাবধানে খাস কালেকশন করা হয়।

এ সব বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.সাইদুর রহমানের সাথে তার অফিসে কথা বললে তিনি বলেন, হাট বাজার থেকে কোন রাজস্ব পান না। সব গুলো হাট বাজার খাস কালেকশন করা হয়। জিল বাড়ী খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে জটিলতায় আছি। কোন ডাক দেওয়া হয়নি। টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। এক পর্যায়ে স্বীকার করেন ওদেরকে প্রতিদিন ২৫০ টাকা করে জমা দিতে বলেছিলাম ওরা ২৫০ টাকাও দেয় আবার ২০০ টাকা করেও দেয়। বৈঠাকাটা খেয়াঘাট থেকে ১৫ হাজার, মেধাঘাট থেকে ২ হাজার এবং চৌদ্দরশি ঘাট থেকে দুই পারের মসজিদে ও এলাকার আওয়ামীলীগের অফিস ভাড়া বাবদ কিছু টাকা দিয়ে ৩৫ হাজার টাকা পেয়েছি। সব টাকাই অফিসে জমা আছে। আপনার সচিব বলেছেন অফিসে কোন টাকা পয়সা জমা হয়নি। এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, উনি বলতে পারেন আমি জানিনা। কাটাখালী ও কাটাপিটানিয়ার খালমুখ থেকে কোন টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার বলেন, এভাবে কোন খেয়াঘাটের টোল আদায় করা বা ডাক দেওয়ার কোন নিয়ম নেই। অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসময় নির্বাহী অফিসারের অফিসকক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপষ পাল উপস্থিত ছিলেন।