হত্যার ৩৬ দিন পর বাড়ির উঠোন থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক।।
স্ত্রীকে হত্যার পর নিজ বাড়ির উঠোনে পুতে রাখা হয় লাশ। বাড়ির উঠোনে গর্ত থেকে ৩৬ দিন পর সুচিত্রা শব্দকর (৪০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সুবাস বাউরীকে (৫০) স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১ টার দিকে মৌলভীবাজার কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানের পশ্চিম লাইন এলাকায় নিজ বাড়ির আঙ্গিনার পাশে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সুচিত্রা শব্দকর বাগানের পশ্চিম লাইন এলাকার সুবাস বাউরীর স্ত্রী। এই দম্পতির ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৬ দিন পর বুধবার সকালে নিহত সুচিত্রার মেয়ে সীমা শব্দকর (২২) এর জেরার মুখে সুবাস একপর্যায় স্বীকার করে কুড়াল দিয়ে আঘাত করে সুচিত্রার মৃত্যু হয়। পরে সে লাশ গোপনের জন্য বাড়ির আঙ্গিনার পাশে লাশ পুঁতে রাখে। একথা শুনে মেয়েটি চিৎকার শুরু করলে সুবাস পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে এলাকার লোকজন তাকে আটক করে বাড়িতে এনে গাছের সাথে বেঁধে রেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে চলতি বছরের ২২ জুন নিখোঁজ হন সুচিত্রা শব্দকর।

খবর পেয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জসহ পুলিশের একটি দল বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক সুবাস বাউরী পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে জানান।

কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মহাদেব বাচাড় জানান, নিহত লাশের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘাতক সুবাস বাউরী নেশাগ্রস্ত থাকে।

কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।