হযরত খানজাহানের দীঘির কুমির ‘কালাপাহাড়’ অর্ধশত ডিম পেড়েছে

সেখ মুজাহিদুল ইসলাম, বাগেরহাট।।
দেশের দ্বিতীয় আধ্যাত্বিক রাজধানী হযরত খানজাহানের (রহ:) মাজার শরীফের দীঘিতে মিঠাপানির বিলুপ্তপ্রজাতির ‘কালাপাহাড়’ নামের মাদি কুমিরটি শুক্রবার(২৬ মার্চ) ভোর রাতে অর্ধশত ডিম পেড়েছে। খানজাহানের বিশাল দীঘির পূর্বপাড়ে মাটি খুঁড়ে ডিম পাড়ে। মাজার শরীফে আসা হযরত খানজাহানের ভক্ত-আশেকান ও পর্যটকরা কুমিরের ডিম পাড়ার খবর পেয়ে দেখতে আসছে দীঘির পূর্বপাড়ে বিনা আক্তরের বাড়ীতে। ডিম পেড়ে কুমির কালাপাহাড় এখন সেই ডিম ফুঁটাতে তা দিচ্ছে। কুমিরের ওইসব ডিম থেকে ৯০ দিনের মধ্যে বাচ্চা ফুটবে বলে আশা করছে মাজার শরীফের খাদেমসহ প্রানি বিশেষজ্ঞরা।

তবে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহন ও বয়স্ক হবার কারনে গত ২০ বছরে খানজাহানের শরীফের দীঘির কুমিরের ডিম থেকে কোন বাচ্চা ফোটেনি। এতে করে দেশের একমাত্র খানজাহানের মাজার শরীফের দীঘিতে শত-শত বছর ধরে বসবাস করা মিঠাপানির কুমির বিলুপ্তির শংঙ্কা বাড়ছে প্রানি বিশেষজ্ঞদের।

ইতিপূর্বে খানজাহানের দীঘিতে বংশ পরাম্পর বসবাস করে আসা ৫০০ এবং ৬০০ বছর বয়স্ক পুরুষ এবং মহিলা প্রজাতির ২টি কুমির মারা গেছে। বর্তমানে হযরত খানজাহানের দীঘিতে কালাপাহাড় ও ধলাপাহার নামে পুরুষ এবং মহিলা প্রজাতির মাত্র ২টি কুমির রয়েছে। এই দুটি কুমির মারা গেলেই বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে বিলুপ্তপ্রজাতির মিঠাপানি প্রজাতির কুমির।

এ বিষয়ে মাজারের প্রধান খাদেম ফকির শের আলী বলেন, বিশাল এই দিঘিতে মাত্র দুটি কুমির আছে এই কুমিরে বছরের চৈত্র মাসে ডিম পাড়ে অনেক বছর হইছে এই ডিমে কোন বাচ্চা ফুটতেছেনা। সরকার যদি উদ্যোগ না নেয় তা হলে হারিয়ে যেতে পারে এই প্রজাতির কুমির।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: লুৎফর রহমান বলেন, আমরা এর আগেও কুমিরের বেশ কিছু ডিম ইনকিউবিটরে দিয়ে তাপ দিয়ে দেখেছি কোন বাচ্চা ফুটেনি। তবে এবার আমরা আশাবাদি মিঠাপানির বিলুপ্ত প্রজাতির কুমিরকে টিকায়ে রাখতে সরকার জরুরী পদক্ষেপ নিবেন।