১৪১ দিন পর কুয়াকাটা সৈকত পেলো পর্যটক

কাজী সাঈদ, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)॥
প্রথম দিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটক নামতে পারেনি সৈকতে। শুক্রবার (২০ আগস্ট) ছিলো পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেয়ার দ্বিতীয় দিন। দ্বিতীয় দিন ভ্রমণ পিপাসুদের পদভারে মুখরিত হয়েছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। ১৪১ দিন পর সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পেলো কয়েক হাজার ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক। কুয়াকাটার আশেপাশের ১৪টি স্পটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আনন্দ উল্লাস করছেন আগত পর্যটকরা। সমুদ্রে গোসল করতে নেমে মেতে উঠেছে ঢেউয়ের মিতালীতে। এক কথায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে কুয়াকাটা সৈকত। আর ব্যবসায়ীক ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের আগমনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা খুশি হলেও এখনও আবাসিক হোটেলগুলোর ৫০ শতাংশ রুম বুকিং হয়নি এমনটাই জানিয়েছেন আবাসিক হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষ।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে চলতি বছরের পহেলা এপ্রিল থেকে সারা দেশের ন্যায় কুয়াকাটা পর্যটক কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন। এরপর টানা ১৪০ দিন বন্ধ থাকে কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার (১৯ আগষ্ট) পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হয় কুয়াকাটা। আগে থেকে প্রস্তুতি নেয় পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো। টানা বৃষ্টিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। আর পর্যটন ব্যবসায়ীদের আনন্দে বাগড়া দিয়েছিলো বৃষ্টি। কিন্তু শুক্রবার (২০ আগষ্ট) সকাল থেকে কয়েক হাজার ভ্রমণ পিপাসুরা এসেছেন কুয়াকাটায়।

এদিকে উত্তাল সমুদ্রে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পর্যটকদের গোসল না করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন।

ফরিদপুর থেকে ভ্রমণে এসে ফুটবল খেলতে সৈকতে নামেন মৌসুমি আক্তার বিলকিস। কথা হয় তার সাথে তিনি বলেন, আগে থেকেই কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য সকল প্রস্তুতি নেয়া ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুয়াকাটা সৈকতে এসেছি। সমুদ্রের রূদ্র মূর্তি, উত্তাল ঢেউ দেখে ভয়ের চেয়ে ভালোই লাগছে।

ফরিদপুর থেকে ঘুরতে আসা লাবন্য মৌ বলেন, কুয়াকাটা একটি সুন্দর জায়গা। এখানে খুবই মজা পেয়েছি। আনন্দ উপভোগ করছি। সময় পেলে বার বার ছুটে আসবো এখানে।

সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঝন্টু বলেন, এতদিন অপেক্ষায় ছিলাম। এখন কিছু পর্যটক এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে আসলে পর্যটক আসবে। বিক্রয় মোটামুটি ভাল। আশা করছি বিগত দিনের লোকশান কাটিয়ে উঠতে পারবো।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোন পুলিশ পরিদর্শক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) বদরুল বলেন, উত্তাল সমুদ্রে আগত পর্যটকরা গোসল করতে নামছে। নিরাপত্তার স্বার্থে জোয়ারের সময় সমুদ্রে গোসল থেকে বিরত থাকতে এবং শতভাগ স্বাস্থ্য বিধি মানতে বলা হয়েছে। এজন্য মাইকিং করাসহ দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিষেধ করা হচ্ছে।