২১ মার্চ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দেশের বৃহৎ পায়রা তাপ বিদ্যু কেন্দ্র

এইচ,এম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ মার্চ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় সরকারী সফর করবেন। তার আগমনকে ঘিরে এ অঞ্চলের মানুষের আকাঙ্খা ও কৌতুহলের শেষ নেই। কুয়াকাটা-পটুয়াখালী মহাসড়কের দুই পাশে পাকা রাস্তা খুঁড়ে অসংখ্য তোরন নির্মান করা হয়েছে। এ ছাড়া ফেস্টুন ও ব্যানার দিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে সাজানো হয়েছে ও রঙ্গবেরঙ্গের ব্যানার ও ফেস্টুন ছেয়ে গেছে। তার সফর নিবিঘ করতে নেয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপওা ব্যবস্থা।

জনসভাস্থল ও প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত পথে নিশ্চিদ্র নিরাপওা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। আগামী ২১ মার্চ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দেশের বৃহৎ পায়রা তাপ বিদ্যু কেন্দ্র। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে দুটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সব নির্মান কাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থেকে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করবেন। এ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হলে দেশের বিদ্যুতের ঘাটতি কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দেশের বৃহৎ ১ হাজার ৩ শ‘২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পায়রা। আল্ট্রা সুপার প্রযুক্তির পাওয়ার প্লান্টের উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই লক্ষে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে দুটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালণ লাইনের সকল নির্মান কাজ। কয়লা ভিত্তিক এ কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটাই মিটবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে উপকূলজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ।

বিসিপিসিএল সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ নর্থওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি ও চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমর্পোট অ্যান্ড এক্সর্পোট করপোরশনের (সিএমসি) মধ্যে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে চুক্তি হয়। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে কয়লা ভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তি প্রস্থর উদ্বোধন করেন প্রধাানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্মাণ কাজ শুরুর পর ২০২০ সালের ১৫ মে প্রথম ইউনিটের ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে জাতীয় গ্রীডে দিতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল)। পরে ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর আল্ট্রা সুপার প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্বিতীয় ইউনিটের ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। কিন্তু গোপালগঞ্জ সাবষ্টেশনের ধারণ ক্ষমতা কম থাকায় এবং গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার আমিন বাজার পর্যন্ত সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় ইউনিটের ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এখন পর্যন্ত সরবারহ করতে পারছেনা এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

তবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে পুরো ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে সক্ষম হবে এ পাওয়ার প্রাল্টন্টটি। তাই আগামী ২১ মার্চ এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি  স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে  উদ্বোধনের ইচ্ছা পোষন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১ হাজার একর জমির উপর নির্মিত এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৯ হাজার ৯ শত ৭৫ কোটি টাকা। প্রতিদিন এ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজন হবে ১৩ হাজার মেট্রিক টন কয়লা। ১৩২০ মেগাওয়াট এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মানে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ২ শ‘৮৪ কোটি টাকা।

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শাহ গোলাম মাওলা জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আমরা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তর নতুন করে সাজাচ্ছি। পায়রা কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে।

পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন ,প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তার সকল প্রস্তুতি সম্পন হয়েছে বলে জানান এ পুলিশের উর্ধতন এই কর্মকর্তা

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, শুধু পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুতই নয় ওই দিন দেশের শতভাগ বিদ্যুতায়ন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগমন উপলক্ষে আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।