মুলাদীতে একই ব্যক্তির দুই জায়গায় জাতীয় পরিচয়পত্র, এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী (বরিশাল)।।
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় একই ব্যক্তি দুই নামে জাতীয় পরিচয়পত্র করিয়ে ও তা দিয়ে সরকারী চাকুরী নেয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, মুলাদী সদর ইউনিয়নের দড়িচর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হক ব্যাপারীর ছেলে আবু বকর সিদ্দিক ওরফে বুলবুল আহমেদ জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম ও জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে চাকরিতে যোগদান করেন।তাঁর একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র করা আছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ের জন্ম নিবন্ধন এবং স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে তার চাকুরিতে দেওয়া তথ্যে ব্যাপক গড়মিল রয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, কোনো ব্যাক্তির একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়ার সুযোগ নাই। কারও নাম বৈধভাবে পরিবর্তন করতে পারেন কিন্তু জন্ম তারিখ পরিবর্তন করা সহজ নয়।

জানা যায় দড়িচর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মোজাম্মেল হক ব্যাপারী ও মোসাঃ রেহানা বেগমের ছেলে মোঃ বুলবুল আহমেদের জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ ০১-০৩-১৯৮৪ইং। পরিচয়পত্র নম্বর ১৯৮৪২৬১৭২৩৯৮৭৬২১৭। ঐ জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে তার স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার জেলার সাভার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে।ঐ জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে ২০১৪ সালে তার বয়সসীমা ৩০ বছরের বেশী হয়ে গেছে।পরবর্তীতে তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগে চাকরি নেওয়ার জন্য নতুন আরেকটি পরিচয়পত্র করেন।নতুন পরিচয়পত্র অনুসারে তার নাম মোঃ আবু বকর সিদ্দিক।সেই জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ ০১-০১-১৯৯২ইং।এ জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে তার স্থায়ী ঠিকানা বেপারী বাড়ী, মুলাদী ইউনিয়ন, পোস্ট অফিস চরলক্ষ্মীপুর, উপজেলা মুলাদী, জেলা বরিশাল।পরিচয়পত্র নম্বর ১৯৫৪২৫৮৭৪৩।

নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে মোঃ আবু বকর সিদ্দিক ওরফে বুলবুল আহমেদ ২০২০ সালে ফায়ার সার্ভিসে চাকরি নেন। বর্তমানে তিনি পিরোজপুর জেলায় কর্মরত রয়েছেন। আবু বকর সিদ্দিক ওরফে বুলবুল আহমেদের মেয়ের জন্ম নিবন্ধন ও স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম বুলবুল আহমেদ। কিন্তু তিনি চাকরি নিয়েছেন মোঃ আবু বকর সিদ্দিক নামে।

এ ব্যাপারে আবু বকর সিদ্দিক ওরফে বুলবুল আহমেদ বলেন, আমার ডাক নাম বুলবুল আহমেদ কিন্তু কাগজপত্রে নাম মোঃ আবু বকর সিদ্দিক। আমার আর একটি পরিচয়পত্র দিয়ে সরকারি চাকরি নিয়েছি। সেখানে কোনো অনিয়ম কিংবা দুর্ণীতির আশ্রয় নেইনি।