২০৩৫ সালেই চাঁদে হবে ফুটবল ম্যাচ?

তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক।।
শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যেই চাঁদের বুকে ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হতে পারে। ইন্সটিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বা আইইটির বিজ্ঞানীরা মহাকাশে ফুটবলের এই রোমাঞ্চকর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তবে পৃথিবীর ‘সুন্দর খেলা’ যখন চাঁদের ধূসর পৃষ্ঠে পৌঁছাবে, তখন এর রূপ এবং ধরনে আসবে আমূল পরিবর্তন।

চাঁদের ফুটবল ম্যাচ হবে পৃথিবীর তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। যেহেতু চাঁদের মহাকর্ষ বল পৃথিবীর মাত্র ছয় ভাগের এক ভাগ, তাই বলের আচরণ হবে ভিন্নধর্মী। সেখানে বাতাস বা বায়ুমণ্ডল না থাকায় কোনো বাতাসের বাধা কাজ করবে না, ফলে সাধারণ একটি লাথিতেই বল পৃথিবীর চেয়ে ছয় গুণ বেশি দূরত্ব অতিক্রম করবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা মাঠের আকার আট গুণ ছোট করার পরামর্শ দিয়েছেন। দীর্ঘ ৯০ মিনিটের বদলে খেলাটি হবে চারটি কোয়ার্টারে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এটি হবে সম্পূর্ণ স্পর্শহীন বা ‘নো কন্টাক্ট’ একটি খেলা। এমনকি গোল পোস্টের সীমানা নির্ধারণে চারপাশ থেকে নেট ব্যবহার করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

খেলার সরঞ্জামেও আসবে বড় বদল। আমাদের চেনা বাতাসের বল সেখানে অকেজো হয়ে পড়বে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। তার বদলে চাঁদে ব্যবহৃত বলটি হবে স্বাভাবিকের চেয়ে দেড় গুণ বড়। এর ভেতরে বাতাসের পরিবর্তে থাকবে বিশেষ এক ধরনের ফোম। চাঁদের তীব্র সূর্যরশ্মি ও গ্লেয়ার এড়ানোর জন্য বলের রং করা হবে সাদা-কালো, যাতে মহাকাশচারীরা স্পষ্ট দেখতে পান। আর ফুটবল ভক্তদের জন্য মজার খবর হলো, জটিল ‘অফসাইড’ নিয়মটি চাঁদের মাঠে সম্ভবত থাকছেই না।

খেলোয়াড়দের পোশাকও হবে এক বিস্ময়। প্রিয় দলের সাধারণ জার্সি পরে সেখানে মাঠে নামা অসম্ভব। খেলোয়াড়দের পরতে হবে নমনীয় অথচ বায়ুরোধী বিশেষ স্যুট, যার ভেতরে থাকবে অত্যাধুনিক হিটিং এবং কুলিং সিস্টেম। এটি খেলোয়াড়দের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে এবং ঘাম শুষে নেবে। প্রতিটি হেলমেটের ভেতরে থাকবে বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে সতীর্থ, কোচ এবং রেফারির সঙ্গে কথা বলা যাবে। আইইটির ফিউচারিস্ট ব্রায়ান ডেভিড জনসন মনে করেন, আসন্ন চন্দ্র মিশনের পর চাঁদে মানুষের বসতি স্থাপন সময়ের ব্যাপার মাত্র, আর তখন মানুষের শখ এবং খেলাধুলাও পৃথিবীর গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে যাবে মহাকাশের দিগন্তে।

সূত্র: বিবিসি।