মূর্তি ভাঙচুরে দশ বছর কারাদণ্ডের হুমকি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক।।

কোনও স্মৃতিসৌধ কিংবা ভাস্কর্য ভাঙচুরের চেষ্টা করলে তাকে গ্রেফতারের ক্ষমতা অনুমোদনের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই কাজে জড়িতদের দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের হুমকি দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৩ জুন) তিনি জানান এই আদেশ পূর্ববর্তী তারিখ থেকে কার্যকর হবে যাতে আগে এই ধরণের কাজে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের সুযোগ পাওয়া যায়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশি হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের জেরে গত ২৫ মে থেকে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে শুরু হয় বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ। এই বিক্ষোভের সময় দেশটির বিভিন্ন স্মৃতিসৌধ ও ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গৃহযুদ্ধ যুগ কিংবা দাসপ্রথা সংশ্লিষ্ট কিংবা উপনিবেশিক শোষণের স্মৃতি বহন করা স্মারকগুলো আক্রান্ত হয়েছে। আর এবার ইতিহাসের নতুন পাঠে আগ্রহী এসব বিক্ষোভকারীর ওপর চড়াও হওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মেমোরিয়াল প্রিজারভেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী স্মৃতিসৌধ, মূর্তি কিংবা এই ধরনের কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পত্তি ভাঙচুর কিংবা ধ্বংসের দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা অনুমোদন করেছি।’ অ্যারিজোনা সফরে রওনা দেওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় ওই হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমি একটি নির্বাহী আদেশ দেবো আর এর সবই বর্তমানে বহাল থাকা বিষয়ই আবারও প্রয়োগ করা হবে কিন্তু তা হবে আরও বেশি সমন্বিত উপায়ে’। ট্রাম্প যে সরকারি সম্পত্তির কথা বলেছেন মার্কিন আইন অনুযায়ী তা ভাঙচুর করলে জরিমানা কিংবা দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

এদিকে সোমবার রাতে হোয়াইট হাউসের কাছে সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের একটি মূর্তি ভেঙে ফেলার চেষ্টা চালায় বিক্ষোভকারীরা। পরে পুলিশ পিপার-স্প্রে দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা মূর্তিটির ওপরে উঠে তা দড়ি দিয়ে বেঁধে উপড়ে ফেলার চেষ্টা চালায়। তবে তাতে সফল হয়নি তারা। ১৯ শতকের প্রেসিডেন্ট জ্যাকসন স্থানীয় আমেরিকান নাগরিকদের ওপর নিষ্ঠুর আচরণের জন্য পরিচিত। আর সেকারণেই তার মূর্তিটি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে বলে মনে করা হয়।