মঠবাড়িয়ায় ফের ভাঙ্গনের মুখে বড়মাছুয়া বেরীবাঁধ, বসত ভিটা নিয়ে শঙ্কায় স্থানীয়রা

মো. মনির আকন, মঠবাড়িয়া।।
সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় আম্পানের জলোচ্ছাসে বলেশ্বর নদ তীরবর্তী পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া মোহনায় বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এতে বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট ও স্ট্রীমারঘাটসহ বাজার ও বসত বাড়ী হুমকির মুখে আছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এ ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করায় স্থানীয়দের মাঝে নদীগর্ভে বসত ভিটা হারানোর আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকাবাসি জানান, কয়েকদফা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট ও স্টিমার ঘাট বাজার এলাকা দোকানপাট ও বসতি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্টিমারঘাট ও বাজারের এখন বিপন্ন দশা।

সরেজমিনে কথা হয় স্থানীয় সমাজসেবক ও বড়মাছুয়া যুবলীগ নেতা মো. মাইনুল ইসলাম এর সাথে। তিনি জানান, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্পানের জলোচ্ছাসের পর ভাঙ্গনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানকার গ্রামের মানুষজন চরম আতঙ্কে রয়েছে। আম্পানে স্টিমারঘাট সংলগ্ন বাধের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় ও পল্টন বিচ্ছিন্ন থাকায় সিড়ি দিয়ে পল্টনে উঠতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। অনেক সময় সিড়ি দিয়ে পড়ে অনেক যাত্রীদের দুর্ঘটনায় শিকার হতে হয়। আবার অনেক যাত্রী ট্রলারযোগে স্টিমারে উঠতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, আম্পান পরবর্তী সম্প্রতি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক পরিদর্শনে এসে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ জরুরী ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য প্রাথমিক ভাবে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এ উন্নয়ন কাজ দ্রুত শুরু না করায় বড়মাছুয়ার লঞ্চঘাট ও স্টিমার ঘাট সম্পূর্ণ বিলীনের আশংকা দেখা দিয়েছে।

পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদের ভাঙন কবলিত ৫টি পয়েন্টের অন্তত ৮.২ কিলোমিটার এলাকায় কার্যকর বাঁধ ও ব্লক নির্মাণের একটি সার্ভে প্রতিবেদন কাজ চলমান। এতে ৭২৪ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প প্রস্তবনা পাঠানো হবে। তবে বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট হতে স্টিমারঘাট পর্যন্ত সাময়িক মেরামতের একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে যা অনুমোদনের অপেক্ষায়।

সম্প্রতি বড়মাছুয়া ভাঙ্গন কবলিত বেড়িবাঁধ ঘুরে দেখা গেছে, বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট বেড়িবাধেঁর অর্ধেক অংশ বিলীন হয়ে গেছে। এতে মোহনা লাগোয়া লঞ্চঘাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তার ওপর বিদ্যুতের খুঁটি হুমকির মুখে রয়েছে।

চলতি বর্ষা মৌসুম শুরুতেই বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট থেকে কাটাখাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমটিার এলাকায় এখন ভাঙ্গনের তিব্রতা বাড়ছে।

বড়মাছুয়া লঞ্চঘাটের মৎস্য আড়তদার ফারুক তালুকদার জানান, টানা ২৫ বছর ধরে বড়মাছুয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় ভাঙ্গন চললেও আজ অবদি ভাঙ্গন রোধে কার্যকার কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখানে দ্রুত বেরিবাধ ও ব্লক নির্মাণ অতি জরুরী।

বড়মাছুয়া ইউপির সদস্য ছলেমান জানান, ইতিমধ্যে মোহনার ৩০/৪০ টি বসত ঘর, বাজারের বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি পাকা মসজিদসহ যাত্রী ছাওনি বিলীন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনেও ভাঙ্গনরোধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এর তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

বড়মাছুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাছির হোসেন হাওলাদার জানান, বেরিবাঁধ এখন হুমকীর সম্মূখীন। ইতিমধ্যে জমি বসতি আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনে বিপন্ন লঞ্চঘাট ও স্টিমারঘাট ভাঙন রোধের দাবিতে এলাবাসি মানববন্ধন করে কোনও ফল পাচ্ছেনা। বড়মাছুয়া বেরিবাঁধের অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় নদীতীরে ব্লক নির্মাণ জরুরী।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বালী বলেন, ভাঙন কবলিত বলেশ্বরের বড়মাছুয়া মোহনা সরেজমিনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি পরিদর্শন করেছেন। ওই স্থানে ভাঙন রোধে ব্লক নির্মাণ করাও জরুরী। বলেশ্বরের ভাঙনরোধে অন্তত ৮.২ কিলোমিটার অংশে বাঁধ ও ব্লক নির্মাণের বিষয়ে একটি সার্ভে প্রতিবেদন প্রস্তুতির কাজ চলছে। প্রকল্প অনুমোদন পরবর্তী নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।