চরফ্যাশনে আম্পানে বরাদ্দের ভূয়া ভাউচারে ১৮লাখ টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা

আমির হোসেন, চরফ্যাশন।।
চরফ্যাশনের ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর অনুকূলে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে বরাদ্দের ১৮ লক্ষ টাকা কাজ না করে ভূয়া বিল ভাউচার জমা দিয়ে উত্তোলন করে আত্মসাতের চেষ্টা চলছে। যে সব প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ আসছে ওই সকল প্রতিষ্ঠানগুলো অধিকাংশই সাইক্লোন সেল্টার কাম প্রাথমিক বিদ্যালয়।

স্থানীয় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম রয়েছে বরাদ্দের টাকা আসলে কাজ করে বিল ভাইচার জমা দিয়ে বিল উত্তোল করতে হয়। সে নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে চরফ্যাশনের ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সদ্য হয়ে যাওয়া ঘুর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যালয় হিসেবে ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তৃষিত কুমার চৌধুরী উশিঅ/ ফ্যাশন,ভোলা/ ক্ষতিগ্রস্ত/ ২০২০/ ৪৫৪ স্মারকে ১৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েল নাম বরাদ্দের জন্যে প্রেরণ করলে শিক্ষামন্ত্রণালয় ১-১২টি প্রতিষ্ঠানে ১লাখ ৫০হাজার টাকা করে মোট ১৮লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়গুলো আম্পানে তেমন কোন ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। চরফ্যাশনে সরকারি বিদ্যালয়গুলো রয়েছে বিল্ডিং, কোন টিনশেট ঘর নেই। কয়টি বিদ্যালয়ের টিনের চালা উড়িয়ে নেয়ার কথা বললেও বাস্তবে ওই বিদ্যালয়গুলার কোন টিনশেড ঘর ছিল না। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ম্যানেজ করে তথ্য গোপন করে ওই বিদ্যালয়গুলোর নামে বরাদ্দ করানো হয়। ইতোমধ্যেই বিদ্যালয়গুলো কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের জন্য ভূয়া বিল ভাউচার বানিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিয়েছেন।

সরকারী নিয়ম রয়েছে কোন বরাদ্দ আসলে তার একটি উপ-সহকারী প্রকৌশলী দিয়ে স্টিমেট করে বরাদ্দের টাকা গুলো খরচ করবে। তা সুপারভিশনের জন্যে তদারকী কর্মকর্তা থাকবে। দেখা যায় এই সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ার নিয়ম না থাকায় সরকারী বরাদ্দের টাকা বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকগন ভূয়া বিল ভাউচার দিয়ে শিক্ষা অফিসের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশে বরাদ্দ টাকা গুলো আত্মসাৎ হয়। তবে শিক্ষা অফিস একটা পার্সেন্টটিজ নেয় বলে জণৈক শিক্ষক অভিযোগ করেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আব্দুস সাত্তার জানান, বিদ্যালয়গুলো থেকে বিল ভাউচার জমা দিয়েছেন। এখনো তাদের কে চেক দেয়া হয়নি।

বরাদ্দ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ চর মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম হোসেন সেন্টু তার বিদ্যালয়ে পশ্চিম পাশে টিনশেড ঘর ছিল বলে দাবি করেন। দেখা যাচ্ছে- ওই বিদ্যালয়ের আশ-পাশে কোন টিনশেট ঘর নেই। সেও এই আম্পান ক্ষতিগ্রস্থ বরাদ্দের দেড়লাখ টাকার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার তৃষিত কুমার চৌধুরী বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ পায়নি তারা এই বরাদ্দের বিরোধীতা করছে। যে বরাদ্দ আসছে শিক্ষকদের মন মানসিকতা ভালো থাকলে এই টাকায় বিদ্যালয়ের অন্যান্য উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব। বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ আদায় করে নিব।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল কুমার হালদার বলেন, তথ্য গোপন করে বরাদ্দ নিয়ে থাকলে এবং অনিয়ম হলে সরেজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।