করোনা নিয়ে সঠিক তথ্য দিতে গিয়ে হুমকির মুখে হংকং’র গবেষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

বিশ্ববাসীকে সঠিক তথ্য দিতে প্রথম থেকেই করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছিলেন তিনি। এই কাজ করতে গিয়ে জীবন নিয়ে হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন হংকং থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আসা এক ভাইরোলজিস্ট। তিনি হংকং স্কুল অব পাবলিক হেলথের ভাইরোলজিস্ট ও ইমিউনোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ লি মেং ইয়ান।

ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে লি মেং ইয়ান জানান, চীন জানতো নতুন এক ধরনের সংক্রামক ভাইরাস মহামারী হতে শুরু করেছে। কিন্তু এই তথ্যই তারা গোপন করেছিলো। এছাড়া বিজ্ঞানীদের এই ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করতে দেয়া হয়নি।

সাক্ষাৎকারে লি জানান, উহান থেকে ভাইরাসের সংক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ার অনেক আগেই করোনা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন তিনি। হংকংয়ের বিশেষ বায়োসেফটি ল্যাবে এই নতুন ভাইরাস নিয়ে তিনি পরীক্ষা করতে শুরু করেন। বুঝতে পেরেছিলেন এই ভাইরাল স্ট্রেন অনেক বেশি প্রাণঘাতী। কীভাবে এই ভাইরাসের মোকাবেলা করা যায় তার উপায় খুঁজতে শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু গবেষণার কাজ বেশিদূর যাওয়ার আগেই তার কাছে হুমকি ফোন আসতে শুরু করে। তার কম্পিউটার হ্যাক করা হয়। ব্যক্তিগত তথ্যেও নজরদারি শুরু হয়।

লি আরো জানান, গবেষণা বন্ধ করার জন্য লাগাতার হুমকি আসছিলো। তাই ২৮ এপ্রিল হংকং থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। সঙ্গে করে নিজের গবেষণার রিপোর্ট, ল্যাবের গোপন ক্যামেরা ও সেন্সরও নিয়ে যান। বিশ্ববাসীকে করোনার সঠিক তথ্য দিতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র পালিয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি।

তার মতে, ২০২০ সালের প্রথমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাসীকে সতর্ক করা দরকার ছিলো চীনের। চীনের সরকারি কর্মকর্তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানিয়েছিলো ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। যদিও করোনাভাইরাসের সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেন সার্স-কভ-২ এর কথা চেপে গিয়েছিলো তারা। এছাড়াও তিনি জানান, চীন সরকার হংকংয়ের লোকজনসহ বিদেশী বিশেষজ্ঞকে চীনে গবেষণা করতে দেয়নি।