কুয়াকাটায় খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ, ৫ গ্রামের মানুষ ও ফসলের সর্বনাশ

কুয়াকাটা প্রতিনিধি॥
‘কচ্ছপখালী খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের ফলে কৃষকের সর্বনাশ।’ ‘খাল বাঁচাও, কৃষক বাঁচাও।’ এমনসব স্লোগান সম্মলিত ফেষ্টুন, ব্যানার নিয়ে কুয়াকাটায় শতাধিক ভুক্তভোগী সাধারণ কৃষক রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় কুয়াকাটা পৌর শহরের কচ্ছপখালী খালের বাঁধে ঘন্টাব্যাপি দাঁড়িয়ে কচ্ছপখালী খাল পুনরুদ্ধার কমিটির ব্যানারে দেড় শতাধিক কৃষক মানববন্ধনে অংশ নেয়।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া কৃষকরা তাদের বক্তব্যে বলেন, প্রবাহমান কচ্ছপখালী খালে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল একাধিক স্থানে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় নবীনপুর, তুলাতলী, আজিমপুর, মুসুল্লীয়াবাদ, দোভাসীপাড়া ও কচ্ছপখালী গ্রামের শতাধিক পরিবারের প্রায় দুই হাজার একর জমির বীচতলা নষ্ট হয়ে গেছে। কৃত্রিম জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে গোটা এলাকায়। প্রবাহমান খালে ভূমিহীন বন্দোবস্ত বাতিলসহ খালের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচলের দাবী জানায় ভুক্তভোগী এসব কৃষকরা। গত কয়েক বছর ধরে খালটি পুনরুদ্ধারে একাধিকবার আবেদন জানালেও রহস্যজনকভাবে ভূমি প্রশাসন কৃষকদের দাবী আমলে নিচ্ছে না। এমন অভিযোগের কথাও জানিয়েছেন মানববন্ধনে অংশ নেয়া কৃষকরা।

কচ্ছপখালী খাল পুনরুদ্ধার কমিটির সভাপতি শাহজাহান মৃধা বলেন, ভূমিহীন সেজে সাবেক ইউপি সদস্য চাঁন মিয়া হাওলাদার ১৯৮০ সালে প্রবাহমান কচ্ছপখালী খালটি বন্দোবস্ত নেয়। ১৩ কিঃমিঃ ওই খালটির ৩ কিঃমিঃ দখল করে ৩টি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় জলাদ্ধতায় দুর্ভোগে রয়েছে ওই এলাকার শতাধিক পরিবার।

এসব বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য চাঁন মিয়া হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার রেকর্ডীয় সম্পত্তির মধ্যে খাল, আমি ওই খালে মাছ চাষের জন্য বাঁধ দিয়েছি।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জগৎবন্ধু মন্ডল বলেন, খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে এমন অভিযোগ রয়েছে। খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।