আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ করা করোনার কোনো সমাধান নয়: ডব্লিউএইচও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
মহামারি করোনার বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্তর্জাতিক চলাচল ও সীমান্ত বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। দীর্ঘস্থায়ী কৌশল হিসেবে এটি উপযুক্তও নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে নিজ সীমান্তের মধ্যেই ভাইরাসটির বিস্তারের লাগাম টানতে হবে দেশগুলোকে। সোমবার (২৭ জুলাই) এমনটাই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থাটির জরুরি কার্যক্রমের প্রধান মাইক রায়ান বলেছেন, আসলে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও চলাচল বন্ধ রাখাটা অসম্ভব। অজানা এক সময় পর্যন্ত যে কোনো দেশের পক্ষে নিজের সীমান্ত বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় সচল করতে হবে। মানুষকে কাজ করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য আবার শুরু করতে হবে। এই বিষয়টা পরিস্কার যে ভাইরাসটির ওপর চাপ তৈরি করার মাধ্যমে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। এটাকে লাগামহীনভাবে ছেড়ে দিলে সংক্রমণ বাড়ছে। কেবল সীমান্ত ও আন্তর্জাতিক চলাচল বন্ধ করেই এটাকে রুখে দেয়া সম্ভব নয়। তার চেয়ে সংক্রমণের উৎপত্তিস্থলগুলো (ক্লাস্টার) খুঁজে বের করে সেটাকে রুখে দিতে হবে।

জেনেভায় এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, মাস্ক পরা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা থেকে শুরু করে কঠোর স্বাস্থ্যবিধিগুলো মানার মাধ্যমেই কোভিড-১৯ মহামারিকে হারানোর পথ পেতে পারে বিশ্ব। কিন্তু অনির্দিষ্টকাল ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা কোনো সমাধান নয়।

তিনি বলেন, যেখানে স্বাস্থ্যবিধি ভালোভাবে মেনে চলা হচ্ছে সেখানে সংক্রমণের হারও কম। যেখানে মানা হচ্ছে না সেখানে আক্রান্তের হারও বেশি। ধন্যবাদ কানাডা, চীন, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়াকে। তারা ভালোভাবেই ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। এই মহামারিটি খুবই ভয়ানক। এই ভাইরাসটি বিশ্বকে বদলে দিয়েছে।

বিশ্বের বেশির ভাগ স্থানেই করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নেই এবং পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, বিশ্বে অনেক স্থানেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নজির আছে, এমনকি করোনার প্রকোপ বেশি থাকা অনেক জায়গাতেও এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ পর্যন্ত জনস্বাস্থ্যে যত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে তার মধ্যে কোভিড-১৯ ‘সবচেয়ে গুরুতর’বলে উল্লেখ করেছেন সংস্থাটির প্রধান। সূত্র-আল জাজিরা।