রামমন্দির নির্মাণে ‘সোনার ইট’ দিতে চান মুঘল যুবরাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের জন্য ভূমিপূজার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। ৫ আগস্ট সে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের ষষ্ঠ প্রজন্মের বংশধর যুবরাজ হাবীব উদ্দিন টুসি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন হিসেবে রামমন্দির নির্মাণের জন্য একটি সোনার ইট দানের কথাও জানিয়েছেন তিনি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া

হায়দরাবাদের শামশাবাদে বাস করেন এই মুঘল যুবরাজ। তার ইচ্ছে, মন্দির নির্মাণের শুরুতে তার দান করা সোনার ইটটাই যেন সবার আগে স্থাপন করা হয়। সোমবার একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এক কেজি ওজনের ওই সোনার ইটের দামে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। দিল্লিতে প্রায় দেড় মাস আগেই অর্ডার দিয়ে তৈরি করে রেখেছিলাম। এখন সেটি সুরক্ষিত জায়গায় রাখা আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছি। সোনার ইটটি তার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে কোনও সাড়া মেলেনি।

রামমন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার খুব ইচ্ছে ছিল তার। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সেখানে খুব কম অতিথিকেই আমন্ত্রণ করা হয়েছে। তাই তার যাওয়া হবে না।

সোনার ইটটির নকশা তিনি নিজেই বানিয়েছেন। ইটের উপরে খোদাই করা আছে ‘জয় শ্রীরাম’।

সোনার ইটের ছবি পাওয়া যাবে কিনা জিজ্ঞাসা করলে যুবরাজের উত্তর, সোনার ইটটি আপাতত নিরাপত্তার কারণে লকারে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলেই, তার হাতে সেটি তুলে দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। যুবরাজের স্পষ্ট কথা, ‘আমি এর জন্য সরকারের কাছ থেকে কোনও বিশেষ সুবিধা পেতে চাই না। আমার কাছে এটাই যথেষ্ট যে আমাকে মোঘল যুবরাজ হিসেবে চিহ্ণিত করা হয়েছে।’

ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে চেয়ে ফৈজাবাদের মুসলমান সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যেও উন্মাদনা চোখে পড়েছে। ফৈজাবাদ জেলার বাসিন্দা জামশেদ খান বলেন, ‘হিন্দু ভাইদের সঙ্গে আমরা উৎসবে মাতব। আমরা ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছি। তাই নামাজ পড়ি। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, ভগবান রাম আমাদের পূর্বপুরুষ’।