হত্যা-গুমের ওপরই বিএনপির রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত: তথ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক।।
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, হত্যা-গুমের ওপরই বিএনপির রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয় তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও প্রদর্শক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক মন্তব্য ‘আওয়ামী লীগ অবলীলায় হত্যা, খুন, গুম করে যাচ্ছে’ -এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি পুরো দলটাই তো হত্যার রাজনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। জিয়াউর রহমান নিজে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত। হত্যার মাধ্যমেই জিয়াউর রহমানের উত্থান এবং হত্যার মাধ্যমেই জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় টিকেছিল। সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমানবাহিনীর কয়েক হাজার অফিসার এবং জওয়ানকে হত্যা করে ক্ষমতায় টিকে থেকে পরবর্তীতে নিজেও হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচারটাও করে নাই, জিয়াউর রহমানের হত্যার পর তারা আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে একবার ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দুইবার ক্ষমতায় ছিল, তখনও তারা জিয়া হত্যার বিচার করে নাই।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন বাংলাদেশে যে গুম, খুন হয়েছে, সেটি নজিরবিহীন। আপনাদের মনে আছে, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালে অপারেশন ক্লিন হার্ট পরিচালনা করা হয়েছিল। তখন ডজন-ডজন মানুষ হত্যা করা হয়েছে। সেসব হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার জন্য আবার সংসদে ইমডেমনেটি দেয়া হয়েছিল। যেভাবে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৯ সালের পার্লামেন্টে তারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার জন্য ইমডেমনেটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করেছিল, একই কাজ বেগম খালেদা জিয়া করেছিল ২০০২ সালে।

বিএনপি রাজপথে আন্দোলনে নামতে পারে -বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর এমন মন্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখন দেশে এবং সারা পৃথিবীতে করোনাভাইরাসের মারাত্মক প্রাদুর্ভাবে মানুষের জীবন পর্যুদস্ত, প্রায় সব দেশেই অর্থনীতি স্থবির হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে আমাদের দেশে অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে, গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বছরের জুলাই মাসে আমাদের রপ্তানি ১৩ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক কর্মসূচিও আমরা সীমিত করে ফেলেছি ।

তিনি বলেন, বিএনপির গত সাড়ে এগারো বছরের রাজনৈতিক চিন্তা, চেতনা, কর্মসূচির ক্ষেত্রে আমি যেটি ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা মনে করি, তারা কখনো জনগণের কথা ভাবেনি, তারা সবসময় ভেবেছে নিজেদের দলের কথা, কিভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে, কিভাবে যেকোনোভাবে সরকারকে ফেলে দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে। সেজন্য তাদের সমস্ত আন্দোলন হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন -এই নিয়ে অথবা তারেক জিয়া বা বেগম খালেদা জিয়ার মামলা-শাস্তি নিয়েই। তারা যে দেশের জনগণকে নিয়ে ভাবে না- সেটিরই বহি:প্রকাশ হচ্ছে রিজভী আহমেদের বক্তব্য।