রেশমা হত্যাকারীর শাস্তির দাবিতে বরিশালে মানবন্ধন

রূপালী বার্তা।।
রেশমা নাহার রত্না’র হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সাইকেলের জন্য পৃথক লেনের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টায় বরিশাল ম্যারাথনের উদ্যোগে নগরের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এ কর্মসূচির হয়। মানববন্ধনে রানার, সাইক্লিস্ট, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেয়।

এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন- বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক বিপ্লব দাস, বরিশাল উদিচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুর রহমান সাগর, বরিশাল ম্যারাথনের আয়োজক যোয়েল কর্মকার ও সন্দীপ সাহা।

বক্তারা বলেন, গত ৭ আগস্ট শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকার চন্দ্রিমা উদ্যান সংলগ্ন লেক রোডে সাইক্লিং করার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান রেশমা নাহার রত্না। তার মৃত্যুতে আরও একবার সড়কে নিরাপত্তার বিষয়টি বড় প্রশ্ন হয়ে ওঠল। ৩৩ বছর বয়সী রত্না ছিলেন একাধারে পর্বতারোহী, দৌড়বিদ ও সাইক্লিস্ট। এছাড়া ঢাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। ২০১৬ সালে বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত কেওক্রাডং পর্বত চূড়ায় ওঠার মাধ্যমে পর্বতারোহন শুরু করেন তিনি। গত বছরের আগস্টে ভারতের লাদাখের স্টক কাংরি (৬১৫৩ মিটার) ও কাং ইয়াস্তে-২ (৬২৫০ মিটার) পর্বত দুটিতে সফলভাবে সামিট করেন রত্না। এ সময় বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন তিনি। এছাড়া ২০১৮ সালের আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কেনিয়া অভিযানেও তিনি অংশ নেন।

এসময় বক্তারা বেশ কয়েকটি সুপারিশ ও দাবির কথা তুলে ধরেন। যেগুলো হলো, যারমধ্যে রেশমা নাহার রত্না হত্যার আসামির অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, কোন শিথিলতা ছাড়াই সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত বাস্তবায়ন। রাজধানী এবং বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে সাইক্লিস্টদের নিরাপদে যাতায়াতের জন্য পৃথক লেনের দ্রুত ব্যবস্থা করা। আইন ও নীতিমালার উল্লেখ অনুযায়ী পথচারীদের অগ্রাধিকার বিষয়টি ব্যাপক ভিত্তিতে বাস্তবায়ন। পথচারীবান্ধব ফুটপাত চলাচল নিশ্চিত করা। বাই সাইকেলের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক কমানো। সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য প্রয়োজনে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ন স্থানে সাইকেলের নিরাপদ পার্কিং এর ব্যবস্থা করা।

পরিশেষ বক্তারা বলেন, আমরা মনে করি সাইকেলের জন্য পৃথক লেনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হলে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত সুবিধার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও যানজট হ্রাস পাবে। এতে বায়ুদূষণ হ্রাসসহ জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।