বড় বড় ডিগ্রী নেয়া সেই সন্তানেরা ব্যার্থ!

কামরুল আহসান হাসান।।
বৃদ্ধাশ্রম হ‌লো মূলত বৃদ্ধ নারী-পুরু‌ষের আবাসস্থল। যেখানে বৃদ্ধদের আলাদা আলাদা রুমে রাখা হয়। ভবনের ম‌ধ্যেই তা‌দের দেয়া হয় খাবার, চিত্ত‌বি‌নোদন এবং অসুস্থতাজ‌নিত সেবা। কিন্তু সেখানে থাকে না খুব কাছের আত্মীয়-স্বজন বা ছেলে-মেয়ে। অথচ শেষ বয়সে যাদের সান্নিধ্য পাওয়া খুবই জরুরী। কেন বৃদ্ধরা তাদের সব থে‌কে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার তথা আশ্রয় এবং বাসস্থন থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন? বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে তিন পর্বের ধরাবাহিকের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাদের ভাগ্যে বৃদ্ধাশ্রম বরণ করে নিতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যাদের ছেলে মেয়ে উচ্চশিক্ষিত এবং যাদের ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার বা ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জনে বাবা-মা তাদের শেষ সম্বল টুকু বা বড় পরিমাণ খরচ করে থাকেন। যাদেরকে লেখাপড়া করে বড় করার জন্য পারিবারিক দায় দায়িত্ব পালন থেকে মুক্ত রাখেন, যাতে লেখাপড়ার ক্ষতি না হয়। মূলত তখন থেকেই ওই সন্তান নিজেকে গোছানোর জন্য স্বার্থপরতা শিখতে শুরু করেন। ওই সন্তান ভুলে যান পারিবারিক দায়িত্ব, ভুলে যান সামাজিক দায়বদ্ধতা, ভুলে যান তার শেষ জীবনে কি পরিণতি অপেক্ষা করছে। তিনি এতই স্বপ্নে বিভোর হন যে নিজের স্ট্যাটাস বা সফলতা অর্জন ছাড়া বাকিদের সব বিষয় গৌণ হয়ে যায়। এমনকি নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতার অধিকার তুচ্ছ হয়ে যায় নিজের ক্যারিয়ার এর সামনে। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে বাবা-মাকে শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে খুঁজে নিতে হয় বৃদ্ধাশ্রম।

আপনারা কি দেখেছেন? খেটে খাওয়া মানুষের বা দেশে উচ্চশিক্ষিত মধ্যআয়ের সন্তানদের বাবা মা ক’জন বৃদ্ধাশ্রমে আছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেশে বা বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেছেন তাদের বাবা মা।

তাহলে ভুলটা কোথায়? একদিকে আদর্শিক শিক্ষার অভাব, অন্যদিকে পারিবারিক দায়িত্ব সম্পর্কে অভ্যস্ত না করা। বাবা মায়ের সন্তানদের ক্যারিয়ার গঠনে যেমনি যত্নশীল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরকালিন জবাবদিহিতা বিষয়ে শিক্ষা দেয়াও উচিৎ। ক্যারিয়ার অর্জন মানে শুধু উচ্চতর ডিগ্রী নয়। যে সন্তান নিজের বাবা মা পরিবারের সদস্যদের সমাজের ধনী বা দুঃখী মানুষের ও তার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ’র নিকট প্রিয়ভাজন হবেন এবং দেশে বা বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রীলাভ করবেন সেটাই সফল ক্যারিয়ার।

যে ডিগ্রীলাভ বাবা-মা থেকে সন্তানকে বিচ্ছিন্ন করে, যে ডিগ্রী দুঃখী মানুষের পাশে থাকে না, যে কিনা স্রষ্টাকে ভুলে যায়, যে সমাজের ভেতরে আলাদা সমাজ তৈরি করে, যে নিজের ছাড়া কিছু বুঝে না, যে জন্মদাতা বাবা মায়ের পরিচয় দিতে লজ্জা অনুভব করে। অন্যদিকে হোক সে খেটে খাওয়া সন্তান কিন্তু বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য দিন রাত ঘাম ঝরাতে দ্বিধা করে না। তার সামনে বড় বড় ডিগ্রী নেয়া স্ট্যাটাস মার্কা সন্তান ব্যার্থ ও তুচ্ছ।

(প্রিয় পাঠক বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব। আগামী শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হবে দ্বিতীয় পর্ব, আশা করি রূপালী বার্তার সঙ্গেই থাকবেন। লেখাটি ভালো লাগলে লাইক দিন, শেয়ার করুন।)