চরফ্যাশনে গৃহবধূর স্তনে পল্লী চিকিৎসকের কাটাছেড়া, অবস্থা সংকটাপন্ন

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি।।
চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাটে পল্লী চিকিৎসকের ভূল চিকিৎসার মমেনা বিবি নামে এক গৃহবধুর জীবন সংকটাপন্ন। পুলিশ এই ঘটনায় একজনকে আটক করেছে। মমেনা বিবি চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার নীলকমল ৮নং ওয়ার্ডের মোঃ সোহাগের স্ত্রী। তাকে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ ও গৃহবধূ মমেনার অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, স্বামী সোহাগ কিছুদিন যাবত ধরে ব্যবসার কথা বলে গৃহবধূর পিতার কাছ থেকে যৌতুক হিসাবে ১লাখ টাকা দাবী করে আসছিল। গৃহবধু অস্বীকার করায় ১৬ মে/২০ তারিখে শশুর আঃ আলী, শাশুড়ী নিরুতাজ, মাফু, রেহানার পরামর্শে স্বামী সোহাগ চুলের মুঠি ধরে লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করে রক্তাক্ত করে। একপর্যায়ে স্বামী সোহাগ গৃহবধূর ডান স্তনে আঘাত করে, এতে গৃহবধুর ডান স্থনে তীব্র ব্যাথা অনুভূত হয়। এর কিছুদিন পর ওই গৃহবধু মৃত ছেলে বাচ্চা প্রসব করে, বাচ্চা প্রসব হওয়ার পর স্তনের ফুলা ও ব্যাথা বাড়তে থাকে। গৃহবধূর সু-চিকিৎসা না হওয়ার কারনে তার ডান স্তনে রক্ত জমাট বেধে ইনফেকশন হয়। এ সময় কোন ধরনের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কর্তৃক চিকিৎসা না করিয়ে গৃহবধুর অনিচ্ছায় স্বামী সোহাগ গত ১৮ আগষ্ট সন্ধ্যায় উপরোক্ত লোকজনসহ দুলারহাট বাজারে পল্লী চিকিৎসক নিরব ডাক্তারের কাছে অপারেশন করার জন্য নিয়ে যায়। পল্লী চিকিৎসক নুরুল আমিন ওরফে নিরব ডাক্তার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না হওয়া সত্বেও তার ফার্মেসির পিছনের রুমে গৃহবধুকে অপারেশন করার নাম করে ডান স্তনে ব্যথানাশক ইনজেকশন ফুস করেন। এরপর ধারালো ছুরি দিয়েু ডান স্তনে গুরুত্বর জখম করে। বর্তমানে গৃহবধূর স্তনের ক্ষত স্থান ইনফেকশন হচ্ছে, তিনি চরফ্যাশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পল্লী চিকিৎসক নুরুল আমিন ওরফে নিরব ডাক্তার প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, এ ব্যপারে আমি কিছুই জানিনা।

এ ব্যপারে গৃহবধু নিজে বাদী হয়ে পল্লী চিকিৎসক নিরব ডাক্তার ও স্বামী সোহাগ সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুলারহাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

দুলারহাট থানার ওসি মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, এ ব্যপারে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে মামলা নং-০৭। মাফু নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। বাকী আসামীদেরকে গ্রেপ্তার করতে জোড় চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।