প্রশাসনে পদ্ধতিগত বর্ণবাদের অভিযোগ অস্বীকার ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর মধ্যে পদ্ধতিগত বর্ণবাদের কোনও চিহ্ন নেই বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভে উত্তপ্ত কেনোশা সফরে গিয়ে সেখানকার সাম্প্রতিক সহিংসতাকে ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গত ২৩ আগস্ট উইসকনসিনের কেনোশা শহরে জ্যাকব ব্লেক নামে এক কৃষ্ণাঙ্গকে পরপর সাতটি গুলি করে স্থানীয় পুলিশ। এরপর থেকে আবারও বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা শহর। বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সহিংসতায় রূপ নেয় এবং এতে গত সপ্তাহে অন্তত দুই বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে কিছু বললে বা কোনও ব্যবস্থা নিতে গেলে ঘটনা আরও জট পাকাবে আশঙ্কায় তাকে এসব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে ব্লেকের পরিবার। তবে নির্বাচনের আগমুহূর্তে সেই অনুরোধ রক্ষা করার তেমন কোনও আগ্রই দেখা যায়নি এ রিপাবলিকান নেতার মধ্যে। ডেমোক্র্যাটশাসিত উইসকনসিনে কেউই নিরাপদ নয় দাবি করে সেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার উইসকনসিনে পা রেখেই সহিংসতার আগুনে পোড়া বিভিন্ন স্থানের ধ্বংসাবশেষ দেখতে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া শতবর্ষী একটি আবসাবপত্রের দোকান মালিকের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি।

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ট্রাম্প আবারও সহিংসতা উসকে দেয়ায় ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেন এবং শহরটিতে মার্কিন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েনের কৃতিত্ব দাবি করেন। যদিও সহিংসতা রোধে উইসকনসিনের গভর্নর কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগেই স্থানীয় নিরাপত্তা সদস্যদের মাঠে নামান এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোর সহযোগিতা চান।

এদিন ট্রাম্প বলেন, এগুলো শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নয়, অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস। বেপরোয়া বাম রাজনীতিবিদরা আমাদের জাতি ও আইন প্রয়োগকারীদের নিপীড়ক বা বর্ণবাদী হিসেবে প্রচারের ধ্বংসাত্মক বার্তা ছড়িয়ে চলেছে।

এর আগে, গত মে মাসে মিনেসোটায় পুলিশি নির্যাতনে কৃষাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে। এতে সমর্থন জানায় সারা বিশ্বের মানুষ। এরপরও দেশটিতে বন্ধ হয়নি পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ নির্যাতন বা হত্যার ঘটনা। ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর আরও অন্তত দুই কৃষ্ণাঙ্গ পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। শেষপর্যন্ত প্রাণে বেঁচে গেলেও এমন ঘটনার সবশেষ নজির হচ্ছে জ্যাকব ব্লেক। সূত্র-আল জাজিরা।